ওয়াশিংটন: ভারত ও পাকিস্তানের সংঘাতে পাঁচটি বিমান নামানো হয়েছিল বলে এবার দাবি করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে কে কার বিমান নামায়, তা যদিও খোলসা করেননি ট্রাম্প। তবে তাঁর এই মন্তব্যে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাতে যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়া নিয়ে এখনও পর্যন্ত নানা দাবি সামনে এসেছে। তবে ভারত সরকার নির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি। সেই নিয়ে এবার জল্পনা আরও উস্কে দিলেন ট্রাম্প। (US-India Relations)

হোয়াইট হাউসে রিপাবলিকানদের সঙ্গে নৈশভোজে বক্তৃতা করতে গিয়ে এই দাবি করেছেন ট্রাম্প। কারা আঘাত করেছে, কাদের বিমান ভেঙে পড়েছে, তা নির্দিষ্ট ভাবে না বললেও, ট্রাম্প বলেন, "আমরা অনেকগুলি যুদ্ধ থামিয়েছি। আর সেগুলি যথেষ্ট গুরুতর ছিল। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যা চলছিল...বিমান নামানো হচ্ছিল। চারটে-পাঁচটা...আমি যতদূর জানি, আসলে পাঁচটি বিমান নামানো হয়। দু'টি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পরস্পরকে আঘাত করছিল। এটা আসলে নতুন ধরনের যুদ্ধ।" (Donald Trump)

ট্রাম্প আরও বলেন, "আপনারা দেখেছেন, ইরানের কী অবস্থা করেছি আমরা। ওদের পরমাণু শক্তি ভেঙে দিয়েছি। একেবারে ভেঙে দিয়েছি...কিন্তু ভারত ও পাকিস্তান থামছিল না। দিনে দিনে (যুদ্ধ) বড় আকার ধারণ করছিব। আমরা বাণিজ্যের মাধ্যমে সমাধান বের করি। পরিষ্কার জিজ্ঞেস করি, ব্যবসা-বাণিজ্য চালু রাখতে চাও কি? এভাবে পরস্পরকে লক্ষ্য় করে অস্ত্র বা পরমাণু অস্ত্র ছুড়লে আমরা ব্যবসা করব না। দুই দেশই পরমাণু অস্ত্রে শক্তিশালী।" (India-Pakistan Conflict)

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার জবাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে 'অপারেশন সিঁদুর' অভিযান চালায় ভারত। এর পরই দুই দেশের মধ্যে পরিস্থিতি তেতে ওঠে। পরস্পরকে লক্ষ্য় করে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ চলে। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন। সেই থেকে বার বার যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব দাবি করেছেন ট্রাম্প। যদিও ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপে নয়, ভারত ও পাকিস্তান পারস্পরিক সম্মতিতেই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। 

সংঘাত পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিমান নামানো নিয়েও একাধিক তথ্য় সামনে এসেছে। পাকিস্তানের দাবি ছিল, রাফাল-সহ ভারতের ছয়টি যুদ্ধবিমান নামিয়েছে তারা। সেই সংখ্যায় সিলমোহর না দিলেও, ভারত যে যুদ্ধবিমান হারিয়েছে, তা মেনে নেন CDS অনিল চৌহানও। বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন শিবকুমার রাজনৈতিক চাপের কথাও উল্লেখ করেছিলেন। বিরোধীদের তরফে সেই নিয়ে বার বার চাপ সৃষ্টি করা হয় নরেন্দ্র মোদি সরকারের উপর। ভারত ক'টি যুদ্ধবিমান হারিয়েছে, তার নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাতে বলা হয়। কিন্তু কেন্দ্রের তরফে এখনও পর্যন্ত সেই নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। আর সেই আবহেই ট্রাম্পের মন্তব্য জল্পনা আরও বাড়াল।