নয়া দিল্লি: শনিবার ভোরে আমেরিকার সেনাবাহিনীর ‘ডেল্টা ফোর্স’-এর অভিযান চলে। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় এয়ারস্ট্রাইক চালায় ট্রাম্পের সেনা। সেখানকার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া মাদুরোকে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আমেরিকায়।
এই পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়েছে, রাশিয়া, চিন, ইজরায়েল উত্তর কোরিয়ার মতো পারমানবিক শক্তিধর রাষ্ট্রগুলি। ভেনেজুয়েলাকে সমর্থন করেছে কানাডা, ব্রাজিলও। নিজের দেশেও সমালোচিত হতে হচ্ছে ট্রাম্পকে। এদিকে, এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় নতুন করে সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব আমেরিকান দাবি মেনে নিতে ব্যর্থ হয় তবে ওয়াশিংটন "দ্বিতীয় ধাপ" আক্রমণ শুরু করতে প্রস্তুত।
ট্রাম্প বলেন, আমেরিকা "ভেনেজুয়েলাকে ঠিক করার" দিকে মনোনিবেশ করেছে। প্রয়োজনে আবারও পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, "যদি তারা আচরণ ঠিক না করে, তাহলে আমরা এবার দ্বিতীয় হামলা চালাব"। ট্রাম্প বলেন, 'আমেরিকা আরেকটি অভিযানের জন্য প্রস্তুত আছে তবে আশা করা হচ্ছে যে এটির প্রয়োজন হবে না।'
ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসনের মধ্যেই এবার আরও তিনটি দেশকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মেক্সিকো, কলম্বিয়া, এবং কিউবার পরিণতিও কি হতে পারে ভেনেজুয়েলার মতই? ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর উদ্বিগ্ন অন্য দেশও।
এদিকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ট্রাম্প প্রশাসন বন্দি করে নিয়ে যাওয়ার পর, আপাতত ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব সামলাবেন সেখানকার ভাইস প্রেসিডেন্ট। ডেলসি রডরিগেজকে এই দায়িত্ব সামলানোর জন্য নিয়োগ করেছে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট। ভেনেজুয়েলার অর্থ এবং খনিজ তেল, দুই মন্ত্রকেরই দায়িত্বে রয়েছেন এই ডেলসি রডরিগেজ।
ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। ডেলসি রডরিগেজের স্পস্ট বক্তব্য, অবিলম্বে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে মুক্তি দিতে হবে। দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করতে ভেনেজুয়েলা প্রস্তুত। ভেনেজুয়েলা কখনও কারও দাসত্ব গ্রহণ করবে না। কোনও সাম্রাজ্যের উপনিবেশ ভেনেজুয়েলা আর কখনই হবে না।