নয়াদিল্লি: দেশে আসন্ন খরিফ মরসুমে কম বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনা এবং এল নিনোর (El Nino) প্রভাব থেকে কৃষকদের বাঁচাতে এবার আগেভাগেই কোমর বেঁধে নামল কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রক। ভারতের সবচেয়ে বড় এই চাষের মরসুম শুরুর আগেই কেন্দ্র একটি বিশেষ আপদকালীন পরিকল্পনা বা ‘কনটিনজেন্সি প্ল্যান’ (Contingency Plan) চালু করেছে। মূল লক্ষ্য হল - সঠিক জল ব্যবস্থাপনা, বীজের পর্যাপ্ত জোগান এবং খরা পরিস্থিতি মোকাবিলা করা।

Continues below advertisement

জেলাভিত্তিক ফসল পরিকল্পনা: 

কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি রাজ্যকে এবার জেলাভিত্তিক আলাদা ফসলের কৌশল বা ‘ক্রপ স্ট্র্যাটেজি’ তৈরি করতে হবে। কোন এলাকায় কেমন আবহাওয়া থাকতে পারে, তা মাথায় রেখেই নেওয়া হবে পদক্ষেপ।

Continues below advertisement

কম সময়ের ও কম জলের ফসলে জোর: 

খরিফ মরসুমে সাধারণত ধান, ডাল, তৈলবীজ, আখ এবং তুলোর মতো প্রধান ফসল বপন হয়। তবে এবার কম বৃষ্টির আশঙ্কায় রাজ্যগুলিকে এমন কিছু ফসল চাষে উৎসাহ দিতে বলা হয়েছে যা খুব দ্রুত পাকে এবং চাষ করতে কম জল লাগে। যেমন- বিভিন্ন ধরণের ডাল, নির্দিষ্ট কিছু মিলেট (Millets) এবং শাকসবজি।

খরা-প্রতিরোধী বীজ বণ্টন: 

বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এল নিনোর বছরে বেশ কিছু জেলায় প্রধান খরিফ ফসলের উৎপাদন ১০%-এর বেশি কমে যায়। তাই যেসব জেলায় এল নিনোর প্রভাব বেশি পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে সরকারের তরফে খরা-প্রতিরোধী (Drought-resistant) উন্নত জাতের বীজ বিতরণ করা হচ্ছে।

জল ও সার সংকট মোকাবিলা: 

একদিকে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালীতে তৈরি হওয়া উত্তেজনার দরুন বিশ্ববাজারে সারের দাম বাড়ছে। এই জোড়া সংকট সামাল দিতে রাজ্যগুলিকে সেচ ব্যবস্থা ও জলাধারগুলির জলের স্তরের ওপর কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কৃষকদের সার ও প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব না হয়।

দেরিতে বীজ বোনার কৌশল: 

কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে নির্দিষ্ট এলাকা এবং ফসল অনুযায়ী বিশেষ আবহাওয়া ও বীজ বপনের নির্দেশিকা জারি করা হচ্ছে। যদি কোনও কারণে বৃষ্টি আসতে দেরি হয়, তবে চাষের সময় পিছিয়ে দেওয়ার (Delayed sowing) বিকল্প পরিকল্পনাও তৈরি রাখা হয়েছে।

আশঙ্কার কারণ কী?

ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) জানিয়েছে, এবার দেশে দীর্ঘমেয়াদী গড়ের প্রায় ৯২% বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সঙ্গে এল নিনোর কারণে দেশে খরা-সদৃশ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার ৩৫% আশঙ্কা রয়েছে।

কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান গত মাসেই একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেন যে কোনও প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কৃষকদের সময়মতো পরামর্শ, বীজ ও প্রয়োজনীয় বিকল্প সরবরাহ করতে সরকার এবার সম্পূর্ণ ‘মিশন মোডে’ কাজ করছে। এই নিখুঁত ও স্থানীয় স্তরের পরিকল্পনার মাধ্যমেই খামখেয়ালি আবহাওয়ার মধ্যেও দেশের কৃষকদের বড়সড় আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী প্রশাসন।