রাতারাতি সস্ত্রীক ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে বন্দি করে নিয়ে গেছে আমেরিকার সেনাবাহিনী। সেখানকার আদালতে তাঁকে তোলা হয়েছে বিচারের জন্য। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের নিন্দা করেছে বিভিন্ন দেশ। সমালোচনার ঝড় উঠেছে বিশ্বজুড়ে। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, বিষয়টি ভালভাবে না দেখলেও, অনেকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রুষ্ট হবেন এই ভাবনায়, মার্কিন-পদক্ষেপের নিন্দা জানাতে পারেননি সরাসরি। এই আবহে চর্চায় উঠে এসেছে ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্য, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে। যা রুখতে এবার একযোগে এগিয়ে এলেন ইউরোপের একাধিক রাষ্ট্রনেতা। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের (ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল) পাশে দাঁড়িয়ে যৌথ বিবৃতি জারি করেছেন ইউরোপের প্রধান ক্ষমতাশীল দেশগুলির রাষ্ট্রনেতারা। তাঁরা স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, সুমেরু দ্বীপ সুমেরুবাসীর জন্য। এই এলাকা দখলের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট, জার্মানির চ্যান্সেলর, ইতালির প্রধানমন্ত্রী, পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এবং ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর একযোগে জারি করা ওই বিবৃতিতে পরিষ্কার বলা হয়েছে, "গ্রিনল্যান্ড সেখানকার মানুষের। এটা ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জন্য এবং ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র তারাই নিতে পারবে।" এই রাষ্ট্রনেতারা দাবি জানিয়েছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে সুমেরু অঞ্চলের (Arctic Security) নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, "NATO পরিষ্কার জানিয়েছে যে সুমেরু অঞ্চল অগ্রাধিকার এবং ইউরোপিয় মিত্ররা এগিয়ে আসছে। আমরা এবং অন্যান্য অনেক মিত্র দেশ উত্তর মেরুকে নিরাপদ রাখতে এবং প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করতে আমাদের উপস্থিতি, কার্যক্রম এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেছি।" প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প বারবার উল্লেখ করেছেন যে, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ চান তিনি। ২০১৯ সালে প্রথম দফায় প্রেসিডেন্ট থাকার সময়ই এই আওয়াজ তুলেছিলেন তিনি। তাঁর যুক্তি ছিল, মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ডেনমার্ক এই অ়ঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখার জন্য যথেষ্ট কাজ করেনি। গত রবিবারই ট্রাম্প 'দ্য অ্যাটলান্টিক'-কে বলেন, "আমাদের অবশ্যই গ্রিনল্যান্ডের প্রয়োজন। প্রতিরক্ষার জন্য আমাদের এটা প্রয়োজন।” এই ইস্যুতে পোলান্ডের প্রধানমন্ত্রী আবার স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, "গ্রিনল্যান্ডের ব্যাপারে ডেনমার্ক সমস্ত ইউরোপিয় দেশের সংহতির উপর নির্ভর করতে পারে। কোনও সদস্যের North Atlantic Treaty Organisation-র অন্য সদস্যকে আক্রমণ বা হুমকি দেওয়া উচিত নয়। অন্যথা, জোটের মধ্যে সংঘাত বা পারস্পরিক দ্বন্দ্ব দেখা দিলে ন্যাটো তার অর্থ হারিয়ে ফেলবে।" একইভাবে যৌথ বিবৃতির সুরেই আওয়াজ তুলেছেন নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী ডিক স্কুফ।