দিল্লি: সকালে ঘুম থেকে উঠলেই মানুষ প্রথমে টুথপেস্টের টিউব হাতে তুলে নেন। কিন্তু এই টুথপেস্টও যদি ফেক বা নকল হয়, তবে ভাবুন আমরা আসলে কী ব্যবহার করছি। সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতে, যা দেখার পর রীতিমতো মাথায় হাত লক্ষ লক্ষ ভারতীয়র। কারণটা আপনি জানলেও অবাক হবেন। 

Continues below advertisement

দিল্লির খানজাওয়ালায়, একটি নকল টুথপেস্ট তৈরির কারখানা উদ্ধার হয়। যেখানে লুকিয়ে লুকিয়ে নকল 'সেনসোডাইন টুথপেস্ট' তৈরি করে সেগুলো পাড়ার দোকানগুলোতে পাঠানো হচ্ছিল। অন্যদিকে, মেয়াদ উত্তীর্ণ টুথপেস্ট, খাদ্য ও পানীয় পণ্যকে নতুন করে তারিখ পরিবর্তন করে তা পুনরায় ব্যবহারের জন্য পাচার করা হচ্ছিলো বহু জায়গায়। কিন্তু এই যে কথায় বলে, 'চোরের সাত দিন গৃহস্থের এক দিন', এক্ষেত্রেও ঠিক তাই ঘটল। দিনের পর দিন করা এই অপরাধমূলক কাজ ধরা পড়ে যায় দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে। অভিযান চালাতেই পর্দাফাঁস হয়ে যায়। 

খবর পেয়ে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ দুটি পৃথক অভিযান চালায়। নকল 'সেনসোডাইন টুথপেস্ট' তৈরির কারখানা ও মেয়াদ উত্তীর্ণ টুথপেস্ট, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য ও পানীয় পণ্য নতুন করে পুনরায় বাজারে পাচার করার কাজে যুক্ত অপরাধীদের আটক করা হয়। পাশাপাশি কারখানা ভেঙে দেওয়া হয়। 

পুলিশ জানিয়েছে, গুদাম থেকে প্রচুর পরিমাণ নকল সেনসোডাইন টুথপেস্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পূর্ব-পরিকল্পিত এই অভিযান থেকে অন্তত ২০০ কেজি নকল টুথপেস্ট, প্যাকিং ও প্রিন্টিং মেশিন এবং বিপুল পরিমাণ খালি টিউব ও অন্যান্য প্যাকিং সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ এই অভিযানটি চালায়। হরি ওম মিশ্র নামে একজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। 

রোহিনীর সেক্টর-২ এর এই বাসিন্দা স্বীকার করেছেন যে, তিনি গুদামটি ভাড়া নিয়েছিলেন এবং কোনও বৈধ লাইসেন্স বা অনুমোদন ছাড়াই নকল পেস্ট দিয়ে খালি সেনসোডাইন টিউবের মধ্যে ভর্তি করে বাজারে বিক্রি করতেন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) এবং কপিরাইট আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় ক্রাইম ব্রাঞ্চ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে হরি ওম মিশ্রর বিরুদ্ধে।