Kidney Transplant: বাবারা তো মেয়েদের কাছে 'সুপার হিরো'। সব মেয়েই মনে করেন, তাঁর বাবা পারেন না, এমন কোনও কাজই নেই। একজন বাবা যে সত্যিই তাঁর মেয়ের জীবনের 'সুপার ম্যান' হতে পারেন, তার প্রমাণ আরও একবার পাওয়া গেল আমাদের দেশেই। বছর ২১- এর তরুণী ভুগছিলে কিডনির অসুখে। দুটো কিডনিই প্রায় বিকল হতে বসেছিল। মেয়ের এই অবস্থা মেনে নিতে পারেননি বাবা। সাধ্যের বাইরে বেরিয়ে চিকিৎসা তো করিয়েইছেন। সেই সঙ্গে মেয়ের আগামী দিনের জীবন যেন সুস্থ হয়, তাই সন্তানকে দান করেছেন নিজের কিডনি। জানা গিয়েছে, কিডনি প্রতিস্থাপনের পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন পেশায় ইনফ্লুয়েন্সার ওই তরুণী। এককথায় বাবার ভালবাসায় পুনর্জন্ম হয়েছে তরুণীর। সোনালি ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবেন তিনি। 

Continues below advertisement

সাধারণ ইউরিন ইনফেকশন দিয়ে সূত্রপাত হয় সমস্যার। ধীরে ধীরে বিকল হতে শুরু করে কিডনি। চালু হয় ওষুধপত্র। মাত্র ৪০ শতাংশ কাজ করত তরুণীর দুই কিডনি। ক্রমশ বাড়তে থাকে সমস্যা। দেখা দেয় কিডনির জটিল অসুখ। ক্রনিক কিডনি ডিজিজে দুটো কিডনিই বিকল হয়ে যায় ২১ বছরের ওই তরুণীর। মেয়ের জীবনযাত্রা কার্যত থেমে যাচ্ছিল বাবার চোখের সামনে। সত্যিই তো এমন পরিস্থিতি কীভাবেই বা মেনে নিতেন একজন বাবা। তাই মেয়ের জন্য সবচেয়ে যেটা ভাল হয়, সেটাই করেছেন তিনি। নিজের কিডনি দান করেছেন মেয়েকে। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনের ছন্দে ফিরতে চলেছেন ওই তরুণী সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার। 

একদম ছোটবেলা (৪-৫ বছর বয়স) থেকেই কিডনির অসুখে ভুগছেন ওই তরুণী। সময় যত এগিয়েছে, বয়স যত বেড়েছে, কিডনির সমস্যা তত বেড়েছে। হাসপাতালের করিডর, ডায়ালিসিস প্রক্রিয়ার ঘেরাটোপেই জীবন কাটতে শুরু করে কিউটি নামে ওই তরুণীর। সোশ্যাল মিডিয়া থেকেও একপ্রকার বাধ্য হয়েই বিদায় নিতে হয় তাঁকে। শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হতে শুরু করলে যখন চিকিৎসকরা কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন, একবারের জন্যেও আর কিচ্ছু ভাবেননি কিউটির বাবা যোগেশ। তাঁর কথায়, মেয়ের জীবনের থেকে অন্য কোনও কিছু তাঁর কাছে দামি নয়। মেয়ে যেন নিজের সমস্ত স্বপ্ন পূরণ করতে পারে, সেই সুযোগ মেয়েকে দিতে পারবেন তিনি, বাবা হিসেবে আর কিছুই চাওয়া ছিল না তাঁর। কোনও কিছু না ভেবে নিজের কিডনি মেয়েকে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে যান যোগেশ। দক্ষ, অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সহযোগিতায় সফল হয়েছে কিডনি প্রতিস্থাপন। চোখের সামনে মেয়েকে ধীরে ধীরে সস্থ হতে দেখে খুশি বাবা, স্বস্তি পেয়েছেন তিনি। নিজেদের কাজে সফল হয়ে খুশি চিকিৎসকরাও। 

Continues below advertisement