নয়াদিল্লি: ইজরায়েল-ইরানের সংঘাতের আবহেই  জি-সেভেন সম্মেলন হচ্ছে কানাডায়।  জি৭ - সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী সব দেশই ইজরায়েলের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করল। সব দেশই স্পষ্ট করে দেয় তারা ইরানের বিপক্ষেই। একটি যৌথ বিবৃতিতে ইরানকে পশ্চিম এশিয়ার ‘সন্ত্রাস ও অস্থিরতার মূল উৎস’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

সোমবার রাতে প্রকাশিত এই বিবৃতিতে জি-সেভেন সামিটে অংশ নেওয়া দেশগুলির রাষ্ট্রনেতারা পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করেছে। যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে জি-সেভেন চায় পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফিরুক। স্থিতিশীলতা আসুক। বিবৃতিতে উল্লেখ, জি-সেভেন মনে করে ইজরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। জি সেভেনে অংশ নেওয়া দেশগুলি ইজরায়েলের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবিত। ইরানই পশ্চিম এশিয়াকে অস্থির করে তুলছে বলে মনে করে জি-৭ ভক্ত দেশগুলি। এছাড়া ইরানকেই  সন্ত্রাসের প্রধান উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন উপস্থিত রাষ্ট্রনেতারা।  ইরানকে কখনই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না, জি সেভেন সম্মেলনে সকলেই এই বিষয়ে সহমত ব্যক্ত করেছেন।  জি-৭ -এ একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে বলা হয়, "ইজরায়েলের আত্মরক্ষা করার অধিকার রয়েছে।  সেখানকার নাগরিকদের নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ। ইরানই পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিতিশীলতা এবং সন্ত্রাসের একটি বড় কারণ। আমরা স্পষ্ট করে বলেছি যে ইরানকে কখনওই পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে দেওয়া যাবে না। ।" সকলেরই মত, ইরান সমস্যা সমাধান হলে এই অঞ্চলে উত্তেজনা কমানো যেতে পারে।  জি-৭ ভুক্ত দেশগুলি হল, কানাডা , ফ্রান্স , জার্মানি , ইতালি , জাপান , ব্রিটেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া কানাডার আমন্ত্রণে যোগ দিয়েছে ভারত। 

অন্যদিকে, তেহরান খালি করার বার্তা দিয়ে কানাডা ছেড়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, পরমাণু চুক্তিতে সই করা উচিত ছিল ইরানের। কানাডায় G7 সম্মেলন চলছে। সফর কাটছাঁট করে কানাডা থেকে ফিরে যান ট্রাম্প। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধি বন্ধে চুক্তি সই করার জন্য আমেরিকা ইরানকে ৬০ দিন সময় দিয়েছে, সময় পেরিয়ে গেলেও চুক্তি হয়নি। 

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দেব বলে  হুঙ্কার দিয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের ক্যানসার বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।                                

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে কানাডা পৌঁছেছেন । কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী মোদি সোমবার সন্ধ্যায় সাইপ্রাস থেকে কানাডায় পৌঁছন। কানানাইস্কিসে এই সম্মেলন ১৬ জুন থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত চলবে।