বার্লিন: গুরুদ্বারের মধ্যে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ। হাওয়ায় উড়ে গেল পাগড়ি। এদিক ওদিক থেকে ছুটে এল কৃপাণ। এমনকি গুলিও চলল বেশ কয়েক রাউন্ড। ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটল জার্মানিতে। এই ঘটনায় কমপক্ষে ১১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর। গুরুদ্বারের ব্যবস্থাপনা এবং টাকাপয়সা নিয়ে ঝামেলা এবং সেই থেকেই সংঘর্ষ বলে জানা গিয়েছে। (Germany Gurudwara Clash)

Continues below advertisement

জার্মানির মোয়াস শহরের গুরুদ্বার থেকে এই ঘটনা সামনে এসেছে। সংঘর্ষের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, যাতে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে হাতাহাতি, ধস্তাধস্তি, ধারাল অস্ত্র দিতে পরস্পরকে আঘাত করার দৃশ্য সামনে এসেছে। কৃপাণ, ছুরি নিয়ে একে অপরের উপর চড়াও হতে দেখা যায় মানুষজনকে। এবিপি আনন্দ ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি। (Germany Gurudwara Clash)

পুলিশ জানিয়েছে, ৪০ জনের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি এমন হয় যে স্পেশ্যাল পুলিশ ইউনিট নামাতে হয়। ধারাল অস্ত্রই নয় শুধু, পেপার স্প্রে এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলিও ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। ধর্মীয় স্থানে এমন ঘটনায় স্তম্ভিত সকলে। ঘটনাস্থল থেকে যে দৃশ্য় সামনে এসেছে, তা দেখে শিউড়ে উঠছেন সকলে। 

Continues below advertisement

এত ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হল কী করে, তার নিশ্চিত কারণ এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, গুরুদ্বারের বোর্ড অফ ডিরেক্টর্স নির্বাচন ঘিরে প্রথমে ঝামেলা শুরু হয়। এর পর গুরুদ্বারের তহবিল নিয়ে পরিস্থিতি চরমে ওঠে। দুই গোষ্ঠীই তহবিলের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ দাবি করে। 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম Blid-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হতে পারে আগে থেকে পরিকল্পনা ছিল। প্রার্থনা শুরু হওয়ার আগে আচমকাই পেপার স্প্রে নিয়ে চড়াও হয় একদল। অন্য গোষ্ঠীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা। পিস্তল বের করে গুলিও ছোড়ে একজন। কৃপাণ, ছুরির ঝলকানিও চোখে পড়ে। 

গুরুদ্বারের বোর্ড অফ ডিরেক্টর্স নির্বাচন এবং সঞ্চিত অর্থ নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই ঝামেলা চলছিল বলে জানা গিয়েছে। অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “বেশ কিছু দিন ধরেই সমস্যা, সংঘাত চলছিল। বিশেষ করে প্রভাব খাটানো নিয়ে। কে শেষ কথা বলবে, তা নিয়েই দ্বন্দ্ব। সোমবার সংঘর্ষ শুরু হলে আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি শুরু হয় পুণ্যার্থীদের মধ্যে। আরও ভয়ঙ্কর কিছু ঘটতে পারত। ভাগ্যক্রমে কারও প্রাণ নিয়ে সংশয় নেই।”

Blid জানিয়েছে, সংঘর্ষে ১১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এক সন্দেহভাজনকে হাতে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যেতে দেখা যায় পুলিশকে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। গুরুদ্বার থেকে গুলির খোল উদ্ধার হলেও, এখনও পর্যন্ত আগ্নেয়াস্ত্রটির নাগাল পায়নি পুলিশ।