নয়াদিল্লি: গ্রিনল্যান্ড দখল করতে মরিয়া আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই নিয়ে প্রকাশ্যে বাদানুবাদ, কটাক্ষ, বিদ্রুপ চলছেই। আর তার মধ্যেই নাগরিকদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা জারি করল গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় সরকার। ‘সঙ্কট’কালে কী করণীয়, সেই মর্মে নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। (Greenland Crisis)
ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ডকে ছিনিয়ে নিতে লাগাতার বিবৃতি দিয়ে চলেছেন ট্রাম্প। এমন পরিস্থিতিতে খাবার, জল, শিকার করার অস্ত্রশস্ত্র এমনকি গোলাবারুদ মজুত নিয়ে নির্দেশিকা প্রকাশ করল গ্রিনল্যান্ড সরকার। দেশের আত্মনির্ভরশীলতা বিভাগের মন্ত্রী পিটার বোর্গ সেই নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন। সকলের সামনে তুলে ধরেন ‘An insurance Policy’ শীর্ষক একটি পুস্তিকা। (Donald Trump Greenland Threat)
পিটার বলেন, “আশা করি কিছুই ব্যবহার করতে হবে না।” যে পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে সঙ্কট পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরামর্শ রয়েছে। ‘Prepared for Crises’-এ পাঁচ দিনের মধ্যে আত্মনির্ভর হওয়ার উপায় বাতলে দিয়েছে সরকার। গত বছর গ্রিনল্যান্ডে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সময়ও এমন নির্দেশিকা আসে বলে জানা গিয়েছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, পাঁচ দিনের মতো খাবার মজুত রাখতে হবে। প্রতিদিন পান করার জন্য মাথা পিছু তিন লিটার করে জল, টয়লেট পেপার, ব্য়াটারি দ্বারা চালিত রেডিও, শিকার করার অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ এবং মাছ ধরার সরঞ্জাম মজুত করতে হবে সকলকে।
গ্রিনল্যান্ডের মোট জনসংখ্যা ৫৭০০০। এর মধ্য়ে ৯০ শতাংশই প্রায় আদি জনগোষ্ঠী। বহু শিকার করা, মাছ ধরাই সেখানকার আদি পেশা। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডরিখ নিলসেন মঙ্গলবার জানান, গ্রিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা ক্ষীণ। কিন্তু তাসত্ত্বেও প্রস্তুত থাকতে হবে সকলকে।
গত বছর আমেরিকার মসনদে প্রত্য়াবর্তনের পর থেকেই গ্রিনল্যান্ড দখলের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। সম্প্রতি ভেনিজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে সেখান থেকে বন্দি করে আনার পর থেকে আবারও গ্রিনল্যান্ড দখলের কথা শোনা যাচ্ছে ট্রাম্পের মুখে। ডেনমার্ক থেকে গ্রিনল্যান্ডকে আলাদা করে নিজেদের ছত্রছায়ায় আনতে চান তিনি। গ্রিনল্যান্ড কিনে নিতেও রাজি ট্রাম্প। আবার কথায় কাজ না হলে, অন্য রাস্তা ধরতেও রাজি। রাশিয়া এবং চিনের দোহাই দিয়ে গ্রিনল্যান্ড দখলের কথা যদিও বলছেন ট্রাম্প। কিন্তু সমালোচকদের দাবি, খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ডকে নিজের স্বার্থেই চাই আমেরিকা।
গ্রিনল্য়ান্ড যাতে আমেরিকার হাতে না ওঠে, তার জন্য় ইউরোপিয়ান ইউরোপও এই মুহূর্তে একজোট। সেই আবহে বুধবার ট্রাম্প জানান, তাঁরা 'বলপ্রয়োগ করবেন না'। বরং আলাপ আলোচনার দিকে এগোবেন। ২০২৫ সালের একটি সমীক্ষা বলছে, গ্রিনল্যান্ডের ৮৫ শতাংশ মানুষই আমেরিকার সঙ্গে যুক্ত হতে নারাজ।