Gujrat Accident News: কদিন আগেই জলের সুবিশাল ট্যাঙ্ক ভেঙে পড়ে গিয়েছিল গুজরাতে। আবারও এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে গুজরাতেই। জানা গিয়েছে, এক ব্যক্তি এবং তাঁর মেয়ের মৃত্যু হয়েছে কারণ এই বাবা-মেয়ের মাথার উপর ভেঙে পড়েছে একটি নির্মিয়মাণ ব্রিজের অংশে। ভারী ধাতব পাত পড়েছে ওই ব্যক্তি এবং তাঁর মেয়ের মাথায়। এই ঘটনাও ঘটেছে গুজরাতের সুরাটের কাছে।
মুম্বই থেকে আহমেদাবাদ ছুটবে বুলেট ট্রেন। তার জন্যই ব্রিজ তৈরি হচ্ছে তাপ্তি নদীর উপর। এই সেতুই ভেঙে গিয়েছে। সন্ধের শিফটের কাজ চলছিল কাঠোর গ্রামে। তখনই ঘটে অঘটন। সেতু থেকে ভেঙে পড়ে একটি লোহার পাত। আর সেই ভারী লোহার পাত সটন এসে পড়েছিল ৩৫ বছরের মহসিন ইকবাল শেখ এবং তাঁর ৯ বছরের কন্যা হুমা মহসিন শেখের উপর। ব্রিজের নীচে নদিতে মাছ ধরছিল বাবা-মেয়ে। তখনই ঘটে এই সাংঘাতিক ঘটনা।
এ হেন ঘটনায় হুড়োহুড়ি পড়ে যায় এলাকায়। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা। আশপাশ থেকে বেশ কয়েকজন ছুটে আসেন ওই বাবা এবং মেয়ের জীবন বাঁচাতে। কিন্তু ভারী ধাতব পাতের প্রবল ওজনে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বাবা এবং মেয়ের। চারপাশ থেকে লোকজন এই ২ জনকে বাঁচাতে ছুটে এলেও, শেষরক্ষা হয়নি। বাঁচানো যায়নি ওই বাবা এবং মেয়েকে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে উত্তরণ থানার পুলিশ। দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশ নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলেন তাঁরা। ওই বাবা এবং মেয়ের দেহ চাপা পড়ে গিয়েছিল ব্রিজের ভেঙে পড়া অংশের নীচে। ওই ভারী ধাতব পাতের নীচ থেকে উদ্ধার হয় ২ জনের দেহ। তদন্তের স্বার্থে দেহ দু'টি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।
ব্রিজ নির্মাণের সময়েই এত বড় বিপদ ঘটে যাওয়ায় স্বভাবতই ব্রিজের স্বাস্থ্য নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। পাশাপাশি নিরাপত্তার প্রশ্নও উঠছে। পুলিশ একটি তদন্ত শুরু করেছে এই ঘটনায়। কন্ট্রাক্টর এবং প্রজেক্ট আধিকারিকদেরও নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত যাবতীয় খুঁটিনাটি নিয়ম মেনে ওই ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি গাফিলতির কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। কয়েকদিন আগেই একটি বিশাল বড় জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে পড়েছিল। নির্মাণের পর জল ভরে পরীক্ষা করা হচ্ছিল ট্যাঙ্ক। জল ভরার পরমুহূর্তেই ভেঙে পড়ে ওই ট্যাঙ্ক। কয়েকজন আহত হলেও, ভাগ্য ভাল থাকায় ওই যাত্রায় কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।