চণ্ডীগড়: ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত, ‘ডেরা সাচা সওদা’ প্রধান গুরমীত রাম রহিম সিংহ ফের জেলের বাইরে বেরিয়ে এলেন। আবারও ৩০ দিনের প্যারোল পেলেন তিনি। ২০১৭ সালে ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন রাম রহিম। সেই থেকে এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে ১৬বার প্যারোলে জেলের বাইরে থাকার অনুমতি পেলেন তিনি। (Gurmeet Ram Rahim Singh)
দুই মহিলা শিষ্যকে ধর্ষণ করেন রাম রহিম। সেই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে, ২০ বছরের সাজা হয় তাঁর। তবে গত কয়েক বছরে বার বার প্যারোলে বেরিয়ে এসেছেন তিনি। প্যারোল মঞ্জুর হওয়ার পর মঙ্গলবারই রোহতকের সুনারিয়া জেল থেকে বেরিয়ে আসেন রাম রহিম। সিরসায় ‘ডেরা সাচা সওদা’র সদর দফতরেই তিনি থাকবেন বলে জানা যাচ্ছে। (Ram Rahim Out on Parole)
আরও পড়ুন: রাহুল গাঁধীর নাগরিকত্ব বাতিলের দাবি, দাবি সাংসদ পদও খারিজেরও, পিটিশন জমা পড়ল
রাম রহিমের আইনজীবী জিতেন্দ্র খুরানা জানিয়েছেন, আজই প্যারোলের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। হরিয়ানা সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্যারোল মঞ্জুর করেছে তাঁর। হরিয়ানা পুলিশের ডিজি অজয় সিঙ্ঘস জানান, বিষয়টি জেল কর্তৃপক্ষ এবং কারা বিভাগের আওতায় পড়ে।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই প্যারোলে বেরিয়ে এসেছিলেন রাম রহিম। ২০২৫ সালের অগাস্ট মাসে ৪০ দিনের প্যারোলে বেরিয়ে আসেন তিনি। ওই বছর এপ্রিল মাসে ২১ দিন জেলের বাইরে ছিলেন প্যারোলে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে, দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের আগে ৩০ দিনের প্যারোল পেয়েছিলেন।
২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ২০ দিনের প্যারোলে জেল থেকে বেরিয়ে আসেন রাম রহিম, হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে আগে। ওই বছর অগাস্ট মাসে ফের ২১ দিনের প্যারোল পান। পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের দু’সপ্তাহ আগে, তিন সপ্তাহের প্যারোলে বেরিয়ে আসেন রাম রহিম।
হরিয়ানা, পঞ্জাব, রাজস্থান এবং অন্যান্য রাজ্যে রাম রহিমের অনুগামীরা রয়েছেন। হরিয়ানার সিরসা, ফতেবাদ, কুরুক্ষেত্র, কাটিহাল, হিসারে ‘ডেরা সাচা সওদা’র প্রভাব বেশ মজবুত। রাম রহিমকে বার বার প্যারোল দেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক তরজা চরমে। শিরোমণি অকালি দল রাজ্যের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলেছে। দেশের বিচারব্যবস্থার দিকে আঙুল তুলেছে শিরোমণি গুরুদ্বার প্রবন্ধক কমিটি। সাধারণ নাগরিক এবং প্রভাবশালীদের ক্ষেত্রে আইনও পৃথক বলে অভিযোগ করেছেন পঞ্জাবের প্রাক্তন মন্ত্রী বিক্রম সিংহ মজিথা। পঞ্জাবে ‘ডেরা সাচা সওদা’র বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলি গুরুত্ব পায়নি বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এভাবে চললে দেশের বিচার ব্যবস্থার উপর মানুষের আর বিশ্বাস থাকবে না বলে মত তাঁর।
