Himachal Pradesh News: হিমাচল প্রদেশের সরকার শনিবার তাদের সরকারি কলেজের একজন সহকারী অধ্যাপককে সাসপেন্ড করেছে। ধর্মশালায় রয়েছে এই কলেজ। এই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে যৌন হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে। ১৯ বছরের ওই ছাত্রীর ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে। কলেজে আরও তিন ছাত্রীর দ্বারা র্যাগিংয়ের শিকার হয়েছিলেন এই তরুণী। সেই সঙ্গে অধ্যাপকও আপত্তিকর আচরণ করেছিলেন। স্ট্রেস এবং ভয়ে-আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ছাত্রী। চিকিৎসাধীন ছিলেন লুধিয়ানার হাসপাতালে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। গত ২৬ ডিসেম্বর মৃত্যু হয় ১৯ বছরের এই ছাত্রীর। জানা যাচ্ছে, দলিত সম্প্রদায়ের ছিলেন এই ছাত্রী।
মেয়ের মৃত্যুর পর তাঁর বাবা একটি এফআইআর দায়ের করেছিলেন। সেখানেই এই সহকারী অধ্যাপক (ভূগোল বিভাগ) অশোক কুমারের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনা হয়। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই তৎক্ষণাৎ তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই অধ্যাপককে সাসপেন্ড করা হয়েছে কলেজ থেকে। ইতিমধ্যেই এই সহকারী অধ্যাপকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। এই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা বিভাগের সেক্রেটারি রাকেশ কানওয়ার। অন্যদিকে, শিক্ষা বিভাগের ডিরেক্টর অমরজিৎ শর্মা সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন, নির্যাতিতা ধর্মশালার ওই সরকারি কলেজের ছাত্রী ব্যাচেলার অফ আর্টস ডিগ্রির পার্ট ওয়ানের ছাত্রী ছিলেন। ২০১৪-২০২৫ অ্যাকাডেমিক সেশনের ছাত্রী ছিলেন তিনি।
ওই অধ্যাপককে সাসপেনশনের অর্ডার দেওয়ার পাশাপাশি জানানো হয়েছে, সাসপেন্ড থাকার সময়কালে এই সহকারী অধ্যাপকের হেডকোয়ার্টার হবে শিমলার ডিরেক্টরেট অফ হায়ার এডুকেশন। আগাম অনুমতি না নিয়ে এই হেডকোয়ার্টার ছেড়ে যেতে পারবেন না ওই অধ্যাপক। চার সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে বিভাগীয় তদন্তের জন্য। সেখানে রয়েছেন, অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর হায়ার এডুকেশন হরিশ কুমার, ধালিয়ারা, বৈজনাথ এবং নৌরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষরা। হিমাচল প্রদেশের শিক্ষা দফতরের তরফে এই দল গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি খতিয়ে দেখবে, কী ঘটেছিল। কেন ওই ছাত্রীর এভাবে মৃত্যু হল। যা যা অভিযোগ উঠেছে তা সঠিক কিনা, সবই খতিয়ে দেখা হবে।
হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন একটি ভিডিও করা হয়েছিল ওই ছাত্রীর। সেখানে দেখা গিয়েছে, হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে রয়েছে তরুণী। তিনি যে বেশ অসুস্থ তা বোঝা যাচ্ছে। পাশ থেকে এক মহিলা ছাত্রীকে জিজ্ঞেস করেন, অধ্যাপকের নাম। তরুণী জবাব দেন 'অশোক স্যার'। এই অধ্যাপক কী করেছেন ওই ছাত্রীর সঙ্গে? প্রশ্নের জবাবে অসুস্থ ছাত্রী বলেন, 'অদ্ভুত আচরণ করতেন। সারাক্ষণ পিছনে পড়ে থাকতেন।' ঠিক কী কী হয়েছিল সবিস্তারে জানতে চাওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েন তরুণী। তখন মহিলা এও জিজ্ঞেস করেন তাঁর বাবাকে বাইরে যেতে বলবেন কিনা। জবাবে না বলেন ছাত্রী। কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত হয়েই ছাত্রী বলেন, ওই অধ্যাপক তাঁকে 'স্পর্শ করতেন, বুকের দিকে ইশারা করতেন, অনেক কিছুই বলতেন।'