কলকাতা: চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে জেলেই রাখতে চায় ইউনূস সরকার। ফের গ্রেফতার সন্ন্যাসী। রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় গ্রেফতারির পর এবার চট্টগ্রামে আইনজীবী সইফুল ইসলামকে কুপিয়ে-পিটিয়ে হত্যা মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হল।
আরও পড়ুন, আপনারা করছেন দাঙ্গা, গালাগালি খাচ্ছি আমি, কাদের উদ্দেশে বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ?
বাংলাদেশের সংবাদপত্র প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ, আইনজীবী হত্যা মামলায় চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট SM আলাউদ্দিন মাহমুদ। শুনানিতে চিন্ময়কৃষ্ণর পক্ষে কোনও আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। এর আগে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় গত বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে। সেই মামলায় জামিন মেলেনি, তার আগে এবার নতুন মামলায় গ্রেফতারি।
সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে জেলেই রাখতে চায় ইউনূস সরকার। বাংলাদেশের সংবাদপত্র প্রথম আলো সূত্রে খবর, ৫ মাসের বেশি জেলে কাটানোর পর বাংলাদেশ হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দিয়েছিল। এই জামিনে স্থগিতাদেশ চেয়ে সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রের তরফে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন জানানো হয়েছিল। সেই আবেদনে সাড়া দিয়েছিল আদালত। কিন্তু ক্ষণিকেই ছন্দপদন। জেলমুক্তির আগেই ফের গ্রেফতার চিন্ময়কৃষ্ণ দাস।
সম্প্রতি বাংলাদেশ হাইকোর্টে জামিন হয়েছিল মঞ্জুর। আর তারপরই রাষ্ট্রের তরফে জামিনে স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল! ফলে আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের জেলমুক্তি। বাংলাদেশের সংবাদপত্র প্রথম আলো সূত্রে খবর এসেছিল, হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের নির্দেশে স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ। ইতিমধ্যেই চেম্বার আদালতের মামলার শুনানির তালিকায় নথিভুক্ত হয়ে গিয়েছিল এই আবেদন। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশজুড়ে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার বিভিন্ন ঘটনা সামনে আসতে শুরু করেছিল। এরই মধ্যেই রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে BNP নেতা ফিরোজ খান কোতোয়ালি থানায় চিন্ময়কৃষ্ণ-সহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করেছিলেন। যদিও পরে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এরপর, ২২ নভেম্বর, বাংলাদেশের রংপুরের মাহিগঞ্জ কলেজ প্রাঙ্গনে সমাবেশ করে বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চ।সেখানে বক্তৃতা দিয়েছিলেন চিন্ময়কৃষ্ণ দাস। ২৫ নভেম্বর ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রেফতার করা হয়েছিল সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে।
বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পুণ্ডরিক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময়কৃষ্ণ দাস। চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে তাঁকে গ্রেফতার করেছিল ঢাকা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।এরপর পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে বিনা বিচারে জেলে রয়েছেন তিনি। তাঁর জেলমুক্তিতে ঘোর আপত্তি রয়েছে ইউনূস সরকারের। তাঁকে যে কোনওভাবেই জেলের বাইরে বের হতে দিতে চায় না ইউনূস সরকার, ফের একবার তারই প্রমাণ মিলল।