হানিমুনে গিয়ে, প্রেমিকের সঙ্গে পরিকল্পনা করে স্বামীকে খুন করেছিলেন সোনম রঘুবংশী। হাড় হিম করা এই ঘটনা নিয়ে যে তথ্য় সামনে আসছে, তাতে শিউরে উঠেছে গোটা দেশ ! সেলফি তোলার অছিলায়, ধাক্কা দিয়ে স্বামীকে খাদের ফেলার প্ল্যান ছিল সোনমের। পরিকল্পনা কাজ না করায় খুনের পরিকল্পনা করা হয়। রাজা রঘুবংশী হত্য়াকাণ্ডে এমনই চাঞ্চল্য়কর খবর উঠে আসে পুলিশ সূত্রে। তবে এখানেই শেষ নয়। শুক্রবার তদন্তকারীদের সূত্রে এমন দাবি, করা হয়েছে যা কার্যত ক্রাইম থ্রিলারকেও হার মানায়।  ইনদৌরের যুবক রাজা রঘুবংশী হত্যা মামলায় পুলিশ তদন্তে ক্রমাগত নতুন তথ্য উঠে আসছে ।

এখন জানা যাচ্ছে,  হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্ত বিশাল চৌহান হীরা বাগের একটি বাড়িতে নিজের নামে ফ্ল্যাট বুকিং করে। ফ্ল্যাট বুকিংয়ের সময় বিশাল তিন মাসের ভাড়া অগ্রিম জমা করে। এই পুরো পরিকল্পনাটি ছিল সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রেরই অংশ। এখানেই গা ঢাকা দেওয়ার কথা ছিল সোনমের। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, বিশাল চৌহান ওই ব্যক্তি জানিয়েছিল,  ওই ফ্ল্যাটে থাকবে তার ভাই ও বোন।  

জানা যায়,  জিজ্ঞাসাবাদের প্রথম দিনেই,সোনম ও তার অভিযুক্ত-প্রেমিক  রাজ এবং আরও তিনজন স্বীকার করে নেয় রাজাকে খুন করার বিষয়টি। জানা যায় মেঘালয় থেকে প্রথমে বোরখা পরে পালায় সোনম। মুখ ঢাকা থাকায় গণপরিবহনে কেউ তাকে চিনতে পারেনি।  পূর্ব খাসি পাহাড় জেলার পুলিশ সুপার বিবেক সায়াম পিটিআইকে জানিয়েছেন, ১১ মে সোনম বিয়ের আগেই  রাজাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। এর  মূল চক্রী  ছিল রাজ কুশওয়াহাই। সোনম শুধু, হ্যাঁ-তে হ্যাঁ মিলিয়ে গিয়েছে।  

মেঘালয়ের পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট বিবেক সায়াম জানান, এই তিন যুবকের মধ্যে একজন  রাজের তুতো ভাই। এটা ঠিক সুপারি নিয়ে খুনের বিষয় নয়। বরং তারা বন্ধু রাজকে সাহায্য করার জন্য কাজটি করেছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, রাজ তাদের খরচের জন্য ৫০,০০০ টাকা দিয়েছিল।  অপরাধের পরিকল্পনা ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয় এবং ঠিক হয়, রাজাকে মেরেই দুজনে পালাবে। 

সোনমের দেহ কোথায় গেল, সে-প্রশ্ন তো উঠবেই। তখন কী জবাব দেওয়া হবে ? তার জন্য করা হয়েছিল আরও ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা। তারা ঠিক করেছিল, এমন কিছু করতে হবে, যাতে সবাই বিশ্বাস করে সোনমের দেহ জলপ্রপাতের জলে ভেসে গিয়েছে। অভিযোগ, তারপর পরিকল্পনা হয়, কোনও একজন অজ্ঞাত পরিচয় মহিলাকে খুন করা হবে। তারপর তার দেহ পুড়িয়ে একটি দুই চাকার গাড়িতে চাপিয়ে রাখা হবে। যাতে সেটিকে সোনমের দেহ বলে মনে করা হয়। অর্থাৎ আরও একটি খুনের পরিকল্পনা ছিল তাদের? তদন্তে অন্তত এমনটাই উঠে আসবে। দাবি  তবে, কোনও পরিকল্পনাই সফল হয়নি। পুলিশ সূত্রে খবর, ১৯ মে নবদম্পতি অসমে পৌঁছানোর কয়েকদিন আগে অভিযুক্তরা গুয়াহাটিতে এসেছিল এবং তারা প্রথমে গুয়াহাটিতেই রাজাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু তা হয়নি। অবশেষে মেঘালয়ে কাজটি করা হয়। 

মেঘালয়ে ঘন জঙ্গলে সোনমের সামনে রাজাকে হত্যা করা হয়। তারপর মৃতদেহটি একটি খাদে ফেলে দেওয়া হয়। পুলিশের মতে, সোনম তার রেইনকোট আকাশকে দিয়েছিল কারণ তার শার্টে রক্তের দাগ ছিল। তারপর অভিযুক্তরা  একটি স্কুটারে চেপে ভাইসাউডংয়ের দিকে রওনা হয়।  আকাশ পরে রেইনকোটটি ফেলে দেয়। কারণ তাতেও রক্তের দাগ ছিল।

কিন্তু পুলিশের কাছে একটা একটা করে প্রমাণ আসতে শুরু করায় ঘাবড়ে গিয়েছিল রাজ -সোনম। তখন সোনম নিজেকে অপহরণের শিকার বলে ভান করে। কিন্তু এসব মিথ্যাচার তখন ধরা পড়েই গিয়েছে।