কলকাতা: টেলিভিশন হোক বা খবরের কাগজ, কিংবা সোশ্যাল মিডিয়াতে, প্রায় প্রতিদিনই আমরা এমন সব খবর শুনি যা আমাদের সবাইকে হতবাক করে দেয়। বিশেষ করে খুন বা আত্মহত্যার ঘটনাগুলো। কিন্তু এই আত্মহত্যার ঘটনার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন যে, ভারতে তরুণ-তরুণীরা পড়াশোনায় ব্যর্থ হওয়ার বা উচ্চ শিক্ষিত হয়েও চাকরি না পাওয়ার কারণে আত্মহত্যা করে। মানসিক যন্ত্রনা তাঁদের এই পথ বেছে নিতে বাধ্য করে। কিন্তু এই ঘটনা শুধু ভারতেই ঘটে না। আপনি জানলে অবাক হবেন যে, ভারতের বাইরেও এই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। সম্প্রতি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান আন্তোনিওতে হায়দ্রাবাদের যুবক সাই প্রদীপের মৃত্যু সবাইকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। কারণ, এই মৃত্যুর পেছনেও চাকরি না পাওয়ার অবসাদ গ্রাস করেছিল যুবককে। 

Continues below advertisement

প্রতিবেদন অনুসারে, সাই প্রদীপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস অ্যাট সান আন্তোনিও' (UTSA) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করা সত্ত্বেও তিনি চাকরি পেতে ব্যর্থ হন, যার ফলে তিনি আত্মহত্যা করেন। গত ২১ আগস্ট তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। পরিবারের  সদস্যরা জানিয়েছেন যে, কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর তিনি বেশ কয়েক মাস ধরে একটি চাকরি পেতে বহু সংগ্রাম করছিলেন। তিনি এর আগে হায়দ্রাবাদে অ্যামাজনে কাজ করতেন, কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পর চাকরি না পাওয়ার দুশ্চিন্তা তাকে কুরে কুরে খেতে শুরু করে। এই ঘটনাটির পর মানুষের মনে একটি প্রশ্ন বার বার ঘুরপাক খাচ্ছে, সেটি হল বেকারত্বের চাপে প্রতি বছর তবে কত মানুষ প্রাণ হারান? তবে চলুন এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

বেকারত্ব ও আত্মহত্যা সম্পর্কে এনসিআরবি-এর পরিসংখ্যান কী বলে ?

Continues below advertisement

জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরো (National Crime Records Bureau)-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সারাদেশে মোট ১,৭১,৪১৮টি আত্মহত্যার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা ২০২২ সালের তুলনায় সামান্য বেশি। এই ঘটনাগুলোর অধিকাংশই ঘটেছে পারিবারিক সমস্যা ও অসুস্থতার কারণে। বেকারত্বের কারণে প্রায় ১.৮ শতাংশ আত্মহত্যা হয়েছে, যার অর্থ হলো শুধুমাত্র বেকারত্ব বা চাকরি হারানোর কারণে প্রতি বছর আনুমানিক ৩,০০০ মানুষ মারা যায়। এছাড়াও, কর্মজীবন-সম্পর্কিত সমস্যার কারণে প্রায় ১.১ শতাংশ মানুষের আত্মহত্যা হয়েছে। এই পরিসংখ্যানগুলো থেকে বোঝা যায়, বর্তমান সময়ে চাকরি হারানো বা না পাওয়ার চিন্তা মানসিক স্বাস্থ্যের উপর কতটা গভীর প্রভাব ফেলছে এবং এই চাপ বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে দিন দিন বেড়েই চলেছে।

এই চাপ কেন বাড়ছে এবং এর প্রতিকার কী ?

এই ক্রমবর্ধমান ঘটনার পেছনের কারণ কী ? এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, বর্তমান সময়ে ডিগ্রি অর্জনের পরেও উপযুক্ত চাকরি না পাওয়া তরুণদের মধ্যে প্রচণ্ড হতাশার সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে বিদেশে পড়াশুনা করা শিক্ষার্থীরা পরিবার ও সমাজের প্রত্যাশার চাপের সম্মুখীন হন, যা তাদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবোধ তৈরি করতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার পরামর্শ দেন যে, বেকারত্ব বা কর্মজীবনে বিলম্ব জীবনের শেষ নয়; বরং এটি একটি সাময়িক পর্যায় যা সঠিক সহায়তা এবং ইতিবাচক চিন্তাভাবনার মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এই সময়ে পরিবার ও বন্ধুদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ খোলামেলা আলোচনা এবং সময়মতো সাহায্য চাওয়ার মাধ্যমে প্রায়শই গুরুতর সমস্যা এড়ানো যায়।