এল নিনোর প্রভাবে ঘটতে চলেছে ভয়ঙ্কর কিছু । এমনটা মাস কয়েক ধরেই পূর্বাভাস দিয়ে আসছিলেন আবহবিদরা। পূর্বাভাস মতোই মেক্সিকোর উপকূলে তাণ্ডব চালানো শুরু করল শক্তিশালী হারিকেন পোলো। এই ঝড়ের আগাম সতর্কতা হিসেবেই জরুরি অবস্থা জারি করেছিল মেক্সিকো। শেষ আপডেট অনুসারে এখন, উত্তর-পশ্চিম দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে এই ভয়ঙ্কর ঝড়। আর তার জেরে মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে শুরু হয়েছে প্রবল বৃষ্টি। সমুদ্রও হয়ে উঠেছে উত্তাল।

Continues below advertisement

মার্কিন ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার ( এনএইচসি ) -র সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, পোলো এখন ক্যাটাগরি ৪ হারিকেন। ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২৬০ কিলোমিটার। তবে এর আগে আরও ভয়ঙ্কর চেহারা নিয়েছিল পোলো। পৌঁছে গিয়েছিল ক্যাটাগরি ৫-এর মাত্রায়। পরে কিছুটা শক্তি হারিয়ে এক ধাপ নেমে এসেছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা অবশ্য মনে করছেন এখনও বিপদ কাটেনি। 

এনএইচসি জানিয়েছে, আগামী কয়েক ঘণ্টায় ফের শক্তি বাড়াতে পারে পোলো। এমনকি আগামী কয়েক দিন শক্তিশালী হারিকেন হিসেবেই এটি সক্রিয় থাকতে পারে। বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা অ্যাকু-ওয়েদারের পূর্বাভাস, রবিবার গভীর রাত থেকে সোমবারের মধ্যে স্থলভাগে আছড়ে পড়তে পারে পোলো। মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া উপদ্বীপের দিকে এগোনোর সময় অবশ্য ঝড়ের গতিত কিছুটা কমতে পারে। সে সময় এটি ক্যাটাগরি ২ হারিকেনে পরিণত হতে পারে। ঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সমুদ্র সৈকতে প্রবেশে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে স্থানীয় বন্দরও। শুধু ঝড় নয়, পোলোর প্রভাবে শুরু হয়েছে ভয়ঙ্কর বৃষ্টি। 

Continues below advertisement

হারিকেনের প্রভাবে মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ক্রান্তীয় ঝড়ের মতো জোরালো হাওয়া বইতে পারে বলে সতর্ক করেছে এনএইচসি। এনএইচসি বলছে, পোলো-র কেন্দ্র থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় হারিকেনের তীব্রতার বাতাস বইছে। আর ক্রান্তীয় ঝড়ের মতো শক্তিশালী হাওয়ার প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে প্রায় ২০৫ কিলোমিটার পর্যন্ত। ফলে আগামী কয়েক দিন মেক্সিকোর উপকূলবর্তী এলাকায় পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছেন আবহবিদরা।  ঝড়ের গতিপথ এবং শক্তির পরিবর্তনের উপর নজর আবহাওয়া দফতরের।  

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার, অর্থাৎ WMO-র সেপ্টেম্বরের আপডেট বলছে, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এল নিনো প্রভাব চলছে। আগামী কয়েক মাসে এল নিনোর প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে । ২০২৬ সালের শেষের দিকে তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। তবে এই হারিকেন পোলোর দ্রুত শক্তিবৃদ্ধির পেছনে এল নিনোই একমাত্র কারণ কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ঝড়ের গতিপথ, সমুদ্রের তাপমাত্রা এবং বায়ুমণ্ডলের পরিস্থিতি,সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।