নয়াদিল্লি: সীমান্তে আফগানিস্তানের সঙ্ঘে সংঘর্ষ বেঁধেছে। তাতেও ভারতকে টেনেছে পাকিস্তান। ভারতের হয়ে তালিবান ‘ছায়াযুদ্ধ’ করছে বলে অভিযোগ তুলেছে তারা। পাকিস্তানের সেই দাবি নস্যাৎ করে দিল ভারত। সবকিছুতে প্রতিবেশীর ঘাড়ে দোষ চাপানো পাকিস্তানের বরাবরের অভ্যাস বলে জানানো হল।(India on Pakistan vs Afghanistan Conflict)

গত কয়েক দিন ধরে সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। বুধবার শেষ পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়েছে। সেই আবহেই ভারতের দিকে আঙুল তুলেছে পাকিস্তান। পাক বিদেশমন্ত্রী খোয়াজা আসিফের বক্তব্য, “যুদ্ধবিরতি আটকে যেতে পারে বলে সন্দেহ আছে আমার। কারণ আফগান তালিবানদের সমস্ত সিদ্ধান্তই দিল্লি স্পনসর করছে।মুত্তাকি সাহেব ওখান থেকে ফিরেছেন, না জানি কী পরিকল্পনা নিয়ে ফিরেছেন। বর্তমানে দিল্লির হয়ে ছায়াযুদ্ধ করছে কাবুল। আমাদের বন্ধুরা ওদের (ভারতের) এই প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারবে কি না জানি না প্রশ্নচিহ্ন রয়ে যাচ্ছে। এখনই নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।(Pakistan Afghanistan Clash)

কিন্তু পাকিস্তানের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে যে দুর্বল যুদ্ধবিরতি হয়েছে, তার উপর নজর রয়েছে ভারতের। কাবুলে পাকিস্তান আকাশপথে হামলা চালিয়েছে, কান্দাহারে দুই পক্ষের লোক মারা গিয়েছে বলেও খবর এসেছে।

এই সংঘর্ষে পাকিস্তানের পরিবর্তে আফগানিস্তানের পক্ষেই সওয়াল করেন জয়সওয়াল। তাঁর বক্তব্য, “আমরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি। পাকিস্তান সন্ত্রাসী সংগঠনগুলিকে আশ্রয় দেয়, সন্ত্রাসী কাজকর্মে মদত জোগায়। পড়শির ঘাড়ে দোষ চাপানো পাকিস্তানের বরাবরের অভ্যাস। আফগানিস্তান নিজের ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করছে। ভারত আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং স্বাধীনতার নিয়ে সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

আফগানিস্তানের বর্তমান তালিবান সরকারকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বীকৃতি দেয়নি ভারত। তবে কাবুলে ফের ভারতের দূতাবাস খোলার ঘোষণা হয়েছে। তালিবানের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ভারত সফরে পর্যন্ত এসেছেন। সেই আবহেই সীমান্তে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধেছে। পাকিস্তানের দাবি, নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালিবান জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে আফগানিস্তান, যারা পাকিস্তানের স্কুল-সহ একাধিক জায়গায় হামলা চালাচ্ছে লাগাতার। আফগানিস্তান যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।