নয়াদিল্লি: দুর্যোগ হোক বা বিপর্যয়, জরুরি পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সতর্ক করবে সরকারই। অবশেষে ভারতে চালু হল ডিজাস্টার ইনফর্মেশন সিস্টেম বা বিপর্যয় সতর্কতা ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে সরাসরি নাগরিকদের ফোনে সতর্কবার্তা পৌঁছে যাবে। শনিবার সকাল ১১টা বেজে ৪২ মিনিটে এই প্রযুক্তির আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটল। পরীক্ষামূলক ভাবেই প্রথম সতর্কবার্তাটি পাঠানো হয়েছে লক্ষ লক্ষ নাগরিকের ফোনে। বিপর্যয় পরিস্থিতিতে নাগরিকদের কাছে যাগে আগাম বার্তা পৌঁছে দেওয়া য়ায়, তার জন্য ১০৮টি দেশই প্রযুক্তির সাহায্য় নেয়। তবে সরাসরি মোবাইল ফোনে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রযুক্তি হাতে রয়েছে ৪৫টি দেশেরই। দেশীয় প্রযুক্তিতে ভর করে ভারতও সেই দলে নাম লেখাল।

Continues below advertisement

এদিন সকালে অনেকেরই মোবাইল ফোন কেঁপে ওঠে হঠাৎ। সাইরেনের মতো তীক্ষ্ণ শব্দে বেজেও ওঠে ফোন। বার্তা ঢোকে, ‘Extremely Severe Alerts’. এহেন ‘অত্যন্ত গুরুতর সতর্কবার্তা’ পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অনেকেই। তবে এতে আতঙ্কিত বা উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু নেই। বরং নাগরিকদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে নয়া পরিষেবার সূচনা হল। 

আরও পড়ুন: ১৭ মিনিট ধরে বন্ধ স্ট্রং রুমের সিসি ক্যামেরা? মারাত্মক অভিযোগ তৃণমূলের, উত্তেজনা বারাসাতে, তদন্তের নির্দেশ কমিশনের

লক্ষ লক্ষ মানুষের ফোনে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে নয়া পরিষেবার কথা জানিয়েছে কেন্দ্রই। বলা হয়েছে, দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারত নিজস্ব ‘সেল ব্রডকাস্ট’ পরিষেবা চালু করল, যাতে বিপর্যয় নেমে এলে, সরাসরি নাগরিকদের কাছে সতর্কবার্তা পৌঁছে যায়। দেশের নাগরিকরা সতর্ক থাকলে, দেশও সুরক্ষিত থাকবে। এই সতর্কবার্তা পেয়ে কিছু করতে হবে না কাউকে। পরীক্ষামূলক ভাবেই সতর্কবার্তাটি পাঠানো হয়েছে। 

আরও পড়ুন: বড় ধাক্কা তৃণমূলের ! 'রাজ্য হোক বা কেন্দ্র, এঁরা সবাই সরকারি কর্মী', গণনা-মামলায় জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট

প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে, জরুরি পরিস্থিতিতে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিকদের কাছে সতর্কবার্তা পৌঁছে যাবে। কেন্দ্রীয় সরকারের টেলিকমিউনিকেশন বিভাগ জানিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষার রাস্তা আরও মজবুত হল। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে অত্যাধুনিক জনসতর্কতা ব্যবস্থা চালু করছে কেন্দ্র।

কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে যে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, ২ মে কেন্দ্রীয় টেলিকমিউনিকেশন মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এই পরিষেবার উদ্বোধন করলেন, যার কেন্দ্রে রয়েছে SACHET নামের একটি প্ল্যাটফর্ম, যা সমন্বিত সতর্কবার্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন অনুমোদিত সতর্কবার্তা ব্যবস্থার উপর ভিত্তি করেই এই পরিষেবা চালু করা হল। দেশের ৩৬টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে এই পরিষেবার আওতায় আনা হল।