ভারতের পাকিস্তানে আঘাত: পহেলগাঁও-তে এ ২৬ জন নির্দোষ ভারতীয়র হত্যার প্রতিশোধ নিয়েছে ভারত। গভীর রাতে ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ রাফাল দিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে বায়ুসেনা। ভারতের আক্রমণে লস্কর-ই-তৈয়বা, জইশ-ই-মোহাম্মদ এবং হিজবুল মুজাহিদিনের মতো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সদর দফতর ধ্বংস হয়ে গেছে। খবর পাওয়া যাচ্ছে, এই ৯টি সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিতে ছিল প্রায় ৯০০জঙ্গি। ইতিমধ্যে শতাধিক জঙ্গির মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। তবে এখনও সেনার তরফে নির্দিষ্ট কোনও সংখ্যার কথা বলা হয়নি।
অত্যাধুনিক রাফাল গুঁড়িয়ে দিয়েছে একের পর এক জঙ্গি ঘাঁটি। অপারেশনে ব্যবহার করা হয়েছে স্কাল্প মিসাইল। ১৩০০ কেজির ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দিয়েছে জঙ্গিদের একের পর এক আস্তানা। সকলেই জানতে চান, ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন? গ্রাউন্ড জিরো-তে রয়েছেন এবিপি আনন্দ-র প্রতিনিধিরা।
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। এনটিআরও-রও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এনএসএ অজিত ডোভাল বিশেষ দল নিয়ে অপারেশনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। অপারেশনের জন্য একটি বিশেষ দল তৈরি করা হয়েছিল এবং একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পুরোটাই মনিটরিং করা হচ্ছিল। সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল এনএসএ অজিত ডোভালের হাতেই।
‘অপারেশন সিন্দুর’-এর অধীনে প্রথম পর্যায়ে পাকিস্তানের ভেতরে কোথায় কী চলছে, সেই সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংগ্রহ করেন গোয়েন্দারা। নিবিড় পর্যবেক্ষণ করে সেই সব স্থান চিহ্নিত করা হয়, যেখানে সন্ত্রাসবাদীরা তাদের নতুন আস্তানা তৈরি করেছিল। এর পর সেগুলিকে লক্ষ্য করেই বাকি পরিকল্পনা করা হয়। ভারত এই সব ঘাঁটির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রেখেছিল এবং প্রতিটি কার্যকলাপের ওপর পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছিল । এরইমধ্যে প্রত্যাঘাতের ব্লু - প্রিন্ট এঁকে ফেলেছিলেন অজিত ডোভাল। আক্রমণের পরিকল্পনা তৈরি করে তিনি দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র সঙ্গে।
ডোভাল সামগ্রিক পরিকল্পনা করে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে আলোচনা করেন। বারবার তাঁরা মিটিং করেন। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কোনও নাগরিক নয়, পাক সেনা ঘাঁটি নয়, ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর লক্ষ্যবস্তু হবে কেবলমাত্র সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিগুলোই।
প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে দেখা করার পর অপারেশনটি চূড়ান্ত করা হয়। এর পর এনএসএ আবার প্রধানমন্ত্রী মোদি সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সেখান থেকে সবুজ সংকেত পেয়ে তিনি পরবর্তী প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিলেন। আক্রমণের তথ্য খুব কম লোককে দেওয়া হয়েছিল স্বাভাবিক কারণেই। আর বাইরে চলছিল সেনাবাহিনীর লাগাতার মহড়া। এরপর একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি পরিচালনা করা হয়। এর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন এনএসএ অজিত ডোভাল।
৬ মে রাতে এনএসএ অজিত ডোভালের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেয়ে ভারতীয় সেনা অপারেশন শুরু করে। পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জায়গায় জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে ভারতীয় বায়ুসেনা। এর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের বাহাওয়ালপুরের ২টি জায়গা, মুরিদকে এবং শিয়ালকোট। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মুজফ্ফরাবাদ, কোটলি এবং ভীমবের। এছাড়াও গুলপুর ও চক আমরুতে জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। এর মধ্যে বাহাওয়ালপুরে জইশ-ই-মহম্মদের ঘাঁটি, মুরিদকেতে লস্কর-ই-তৈবার ঘাঁটি, সারজালে জইশ ঘাঁটি, শিয়ালকোটে হিজবুল মুজাহিদিনের ঘাঁটি, বারনালায় লস্করের ঘাঁটি, কোটলিতে জইশ ও হিজবুলের ঘাঁটি, মুজফ্ফরাবাদে লস্কর ও জইশের ঘাঁটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়।