সামরিক শক্তিতে পেরে ওঠেনি। উল্টে নাস্তানাবুদ হতে হচ্ছে পাকিস্তানকে। এই পরিস্থিতিতে, মার খাওয়ার লজ্জা ঢাকতে সীমান্তবর্তী এলাকার নিরীহ ভারতীয়দের নিশানা করছে পাক বাহিনী। কুপওয়াড়া থেকে বারামুলা, উরি থেকে পুঞ্চ, মেন্ধর থেকে রাজৌরি, আখনুর...অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে লাগাতার নিয়ন্ত্রণরেখা লাগোয়া গ্রামগুলোতে গোলাবর্ষণ করছে পাকিস্তান। ইতিমধ্য়েই শিশু, মহিলা-সহ ষোল জন ভারতীয়র মৃত্যু হয়েছে। গোলাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মন্দির-মসজিদ-গুরুদ্বার। 

জঙ্গিদের ওপর আঘাতে এতটাই তেলেবেহুনে জ্বলছে পাকিস্তান যে সীমান্তে ধর্মীয় স্থান থেকে শুরু করে নিরীহ ভারতীয় নাগরিক, সব কিছুকেই নিশানা করছে তারা। বুধবার শিশু-মহিলাদের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার উরিতে প্রাণ গিয়েছে এক মহিলার। 

বুধবার কুপওয়াড়া, বারামুলা, উরি, পুঞ্চ, মেন্ধর, রাজৌরি, আখনুর, সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে, নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর পাক সেনার গোলাবর্ষণে বিপর্যস্ত হয়। বুধবারই মৃত্য়ু হয়েছিল ১৬ জনের। তাঁদের মধ্য়ে রয়েছে ৫ শিশু ও ৩ জন মহিলা। বৃহস্পতিবারও এক জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত আরও একজন। পাক সেনার গোলা আছড়ে পড়েছে পুঞ্চের গীতা ভবনে। ছাদ ফুটো হয়ে গেছে।  গীতা ভবনের কাছেই রয়েছে পুঞ্চ শহরের এই গুরদ্বার। পাক সেনার ছোড়া গোলা আছড়ে পড়েছে সেখানেও। 

বুধবার ভারতের ১৫টি সেনা ছাউনিকে টার্গেট করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু সব অপচেষ্টা মাঝ আকাশেই ব্যর্থ করে দেয় ভারতের আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, S-400। আর তারপর ভারতের পাল্টা ড্রোন হামলায় বিকল হয়ে গেল চিন থেকে আনা লাহৌরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী লাহৌরের পাশাপাশি ভারতের ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাওয়ালপিণ্ডিতে। এখানেই পাকিস্তান সেনার সদর দফতর। এছাড়াও ড্রোন হামলা চলেছে করাচি, গুজরানওয়ালা,  ঘোটকি, অটক-সহ একাধিক এলাকায়। 

বৃহস্পতিবার  রাজনাথ সিংহ জানান, 'অপারেশন সিঁদুরে' মৃত্যু হয়েছে ১০০-এরও বেশি জঙ্গির । সর্বদল বৈঠকে এমনই বার্তা দেন তিনি। জানান, 'অপারেশন সিঁদুর'এখনও চলছে। তার প্রমাণ মেলে ভারতের তীব্রতর প্রত্যাঘাতে।  পাশাপাশি কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ সব বিরোধী দলই দেশের প্রশ্নে এককাট্টা হয়ে সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে। এদিন সর্বদল বৈঠকে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার আবেদন জানান লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।           

এদিকে, অসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যুরো (BCAS) দেশজুড়ে সমস্ত বিমান সংস্থা এবং বিমানবন্দরকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে। সমস্ত বিমানবন্দরে সমস্ত যাত্রীদের একটি সেকেন্ডারি লেডার পয়েন্ট চেক (SLPC) করতে হবে। টার্মিনাল ভবনে দর্শকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রক সূত্র জানিয়েছে, এয়ার মার্শালদের যথাযথভাবে মোতায়েন করা হবে।