নয়াদিল্লি: ভারত-পাক সংঘর্ষবিরতি শুরু হওয়ার পর আজ প্রথম ২ দেশের DGMO স্তরের বৈঠক। এদিন দুপুর বারোটা নাগাদ দুই দেশের সামরিক বাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশ স্তরে (DGMO ) বৈঠক হবে। বৈঠকে ভারতের পক্ষে থাকবেন DGMO রাজীব ঘাই। বৈঠকে পাকিস্তানের পক্ষে থাকবেন পাক DGMO কাসিফ আবদুল্লাহ্। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই জারি থাকবে, বৈঠকের আগেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত। ভবিষ্যতে ভারত-পাক আলোচনা হবে পাক অধিকৃত কাশ্মীর ফেরত পাওয়া নিয়ে, গতকাল জানিয়েছে ভারত।
মূলত, ভারতের টানা এয়ার স্ট্রাইকে দিশেহারা হয়ে যায় পাকিস্তান। সূত্রের খবর, তখন পাকিস্তানের সেনা প্রধান আসিম মুনির কথা বলেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে। এরপর মার্কিন বিদেশসচিব ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে ফোন করে বলেন, পাকিস্তান আলোচনা করতে চায়। তখনই জানিয়ে দেওয়া হয়, রাজনৈতিক স্তরে নয়, কথা হবে DGMO পর্যায়ে। আর তাতেই রাজি হয়ে যায় পাকিস্তান।
শনিবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরে দুপুরেই, ভারতের DGMO-কে ফোন করে পাকিস্তান। ট্রাম্পের মধ্যস্ততায় অবশেষে দুই দেশই যুদ্ধ বিরতিতে রাজি হয়। এরপর ভারতের তরফে বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন। বিকেল ৫টা থেকে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধের কথা ঘোষণা করা হয়। একদিকে সংঘর্ষ বিরতির জন্য আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান পাক প্রধানমন্ত্রী। অপরদিকে, সংঘর্ষবিরতি ঘোষণার ৩ ঘণ্টার মধ্যেই সমঝোতা ভেঙে গুলি চালিয়েছে পাকিস্তান ! আর রাত বাড়তেই পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ ফের মিথ্যার আশ্রয় নেন। ভারতের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে 'ঐতিহাসিক জয়' বলেই ঘোষণা করেন। পাক সেনাদের উদ্দেশ্যে প্রশংসাও করেন তিনি।
এদিকে, সংঘর্ষবিরতি ঘোষণার পর ফের ঝলমলিয়ে ওঠে শ্রীনগর। উইকএন্ডের রাতে আলোয় উজ্জ্বল ডাল লেক। এবিপি আনন্দে লাইভ টেলিকাস্টের মধ্যেই ফের আকাশে দেখা যায় কয়েকটা লাল বিন্দু। সঙ্গে বিস্ফোরণের শব্দ। মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় শ্রীনগরের ছবি। ঝলমলে শহর ডুবে যায় অন্ধকারে। জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, এইমাত্র সংঘর্ষবিরতির কী হল? শ্রীনগর জুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে! কোনও অস্ত্রবিরতি হয়নি। শ্রীনগরের এয়ার ডিফেন্স ইউনিটগুলি আবার চালু হয়েছে।
যদিও সেনা সূত্রে পরে দাবি করা হয়, শ্রীনগরে কোনও বিস্ফোরণ হয়নি। সেনা সূত্রে খবর, আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরারবর ১১ জায়গায় সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান।৯টি শহরের আকাশে দেখা যায় পাক ড্রোন।জম্মু, শ্রীনগর, বারমেড়, আরএসপুরা সেক্টর, অমৃতসর, ভাতিন্দা, পাঠানকোট, কচ্ছ ফের শুরু হয় সেনা তৎপরতা, বিভিন্ন সীমান্ত-শহরে করা হয় ব্ল্যাকআউট। গুজরাতের কচ্ছের আকাশেও দেখা যায় পাক ড্রোন। আলো নিভিয়ে দেওয়া হয় অমৃতসরের গোল্ডেন টেম্পলের। বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট।ভারতীয় সেনার যোগ্য জবাব পেয়ে ফের পিছু হঠে পাকিস্তান।গুলি করে নামানো হয় সব ড্রোন। বন্ধ হয় গোলাগুলি।