সন্দীপ সরকার ও সুকান্ত মুখোপাধ্যায়, জম্মু ও কাশ্মীর: সংঘর্ষবিরতি ভেঙে শনিবার ফের গুলি চালিয়েছে পাকিস্তান। রাতের অন্ধকারে জমমুর আর এস পুরার সুচেতগড় গ্রামে এক বাসিন্দার বাড়ির চৌহদ্দিতে এসে পড়ে পাক মর্টার! যে ঘটনায় এখনও আতঙ্কে গ্রামবাসীরা। গভীররাতে পরিস্থিতি ফের নিয়ন্ত্রণে এলেও আজও থমথমে কাশ্মীর। শ্রীনগরের ডাল লেকে দেখা মেলেনি পর্যটকের। যদিও সতর্কতা বজায় রেখেই ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছে ভূস্বর্গ।

আরও পড়ুন, ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষবিরতিকে 'ঐতিহাসিক জয়' আখ্যা, জাতির উদ্দেশে ভাষণেও মিথ্যাচার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ! সংঘর্ষ বিরতি ঘোষণার পরও গুলিগোলা ছুড়ে শনিবার রাতে ফের নিজেদের স্বভাব বুঝিয়েছে পাকিস্তান। রাতের অন্ধকারে জম্মুর আর এস পুরার সুচেতগড় গ্রামে এসে পড়ে পাক মর্টার। স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন কুমারের বাড়ির পাঁচিলে ফুঁড়ে এমন বিপজ্জনকভাবে গেঁথে রইল সেটি! যে ঘটনায় আতঙ্কে গ্রামবাসীরা।সুচেতগড় গ্রাম ভারত-পাক সীমান্তের একদম লাগোয়া।সংঘর্ষবিরতির পরেও যেভাবে পাকিস্তানের তরফে হামলা তার জলজ্যান্ত প্রমাণ।একটি বাড়ি তার উঠোনে পাঁচিলের ধার ঘেঁষে পড়ে রয়েছে মর্টার। ফাটেনি। এভাবে গেঁথে রয়েছে। রীতিমতো আতঙ্কে গ্রামবাসী।শনিবার, জম্মুর  এই আর এস পুরাতেই পাক সেনার গোলায় নিহত হন BSF-এর সাব ইনস্পেক্টর মহম্মদ ইমতিয়াজ। রবিবার জম্মুর পালোরায় ফ্রন্টিয়ার হেড কোয়ার্টারে নিহত BSF আধিকারিককে জানানো হয় শেষ শ্রদ্ধা।  শনিবার, রাত তখন ৮টা ১৫। সংঘর্ষবিরতি ঘোষণার পর সবে শ্রীনগর ডাল লেকের ধারে আলো জ্বলে উঠেছে। তার কিছুক্ষণ পরেই যেন নাটকীয় বদল। ফের শ্রীনগরের আকাশে দেখা যায় লাল বিন্দু, সঙ্গে বিস্ফোরণের শব্দ। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে অন্ধকারে ডুবে যায় ডাল লেক-সহ সংলগ্ন গোটা এলাকা। ২২ এপ্রিল, এই কাশ্মীরেই পর্য়টকদের রক্তে ভিজে গিয়েছিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকা।সেই ঘটনার প্রত্যাঘাতে, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি গুড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনা। 

তারপর পেরিয়ে গেছে ১৯ দিন। রবিবারও পহেলগাঁও, অনন্তনাগ, কুলগ্রাম-সহ উপত্য়কার একাংশে চলে চিরুনি তল্লাশি।উপত্যকাতে সন্ত্রাসবাদী কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং সরাসরি জঙ্গিদের সাথে লিঙ্ক থাকা সেই ঠিকানাতে তথ্যতলাশ করেছে SIA অর্থাৎ স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি। জম্মু- কাশ্মীর পুলিশ সূত্রে  জানানো হচ্ছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় বেশ কয়েকজনের গতিবিধি সন্দেহজনক লেগেছে। উপত্যকায় একাধিক সন্ত্রাসবাদী কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ রয়েছে। সেই নিরিখেই অভিযান চালানো হচ্ছে। দেখা হচ্ছে এই দলের সঙ্গে বৈসরন ভ্যালিতে যারা হামলা চালিয়েছিল, তাদের যোগ আছে কিনা। এখনও হামলাকারী জঙ্গিদের কেউ তদন্তকারীদের নাগালে আসেনি।