নয়াদিল্লি: সংঘাতে ইতি টানতে রাজি ভারতও পাকিস্তান। যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে দুই দেশই। ঘোষণা করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার বিকেলে এই ঘোষণা করলেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প জানিয়েছেন, রাতভর এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারত এবং পাকিস্তান, দুই দেশই পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। ট্রাম্পের দাবিতে সিলমোহর দিয়েছে ভারত, পাকিস্তান, দুই দেশই। (India-Pakistan Ceasefire)

এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লেখেন, ‘আমেরিকার মধ্যস্থতায় রাতভর এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অত্যন্ত সন্তুষ্টির সঙ্গে জানাচ্ছি, ভারত এবং পাকিস্তান পূর্ণ এবং সত্বর যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। দুই দেশকেই অভিনন্দন যে তারা বিচারবুদ্ধি খাটিয়েছে এবং বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য ধন্যবাদ’। (Donald Trump)

আমেরিকার বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং আমি ভারত ও পাকিস্তানের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করছিলান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির, ভারতের জাতীয় উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, আসিম মালিকের সঙ্গে কথা হয়। অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে ভারত ও পাকিস্তান। নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনাতেও সম্মতি হয়েছে তারা। প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং প্রধানমন্ত্রী শরিফ বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন, শান্তির পথ বেছে নিয়েছেন।

ট্রাম্পের ঘোষণার পরই এদিন ভারতের বিদেশমন্ত্রকের সচিব বিক্রম মিশ্রি বলেন, "পাকিস্তানেক ডিরেক্টর্স জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশন্স আজ দুপুর ৩টে বেজে ৩৫ মিনিটে ভারতের DGMO-কে ফোন করেন। দুই পক্ষই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, জলে, স্থলে আকাশে গোলাগুলি এবং সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ হবে আজ বিকেল ৫টা থেকে। সেই মতো দুই তরফেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। DGMO-রা ১২ মে দুপুর ১২টায় আলোচনায় বসবেন।"

ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর লেখেন, 'ভারত ও পাকিস্তান আজ গোলাগুলি ও সামরিক পদক্ষেপ থামিয়ে বোঝাপড়ায় পৌঁছেছে। ভারত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বরাবর কঠোর অবস্থান নিয়েছে, কখনও আপস করেনি। আগামী দিনেও সেই অবস্থান বজায় থাকবে'।

পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইশাক লিখেছেন, 'পাকিস্তান এবং ভারত অবিবম্বে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। পাকিস্তান বরাবর নিজেদের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রেখে শান্তি এবং নিরাপত্তার উপর জোর দিয়েছে'। তবে ট্রাম্প যেহেতু যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করলেন, তাই আমেরিকার মধ্যস্থতাতেই ভারত  এবং পাকিস্তান একমত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে পাকিস্তানের তরফে ফের উস্কানি এলে মুখের মতো জবাব দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে ভারত।