ইসলামাবাদ : ভারতের কোনও মহিলা পাইলট তাদের হেফাজতে নেই। গুজব ওড়ালেন পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ডিজি (জনসংযোগ) । তাঁর বক্তব্য, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক তীব্র ও আগ্রাসী সংঘর্ষের পর এটি বিভ্রান্তিকর প্রচার এবং মিথ্যা প্রতিবেদনের অংশ। সাংবাদিক বৈঠকে জনগণের উদ্দেশে ভুয়ো তথ্যে কান না দেওয়ার আর্জি জানান পাকিস্তান নৌবাহিনী ও বায়ুসেনার সিনিয়র আধিকারিকরা। লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, "আমি স্পষ্টভাবে বলতে পারি যে আমাদের হেফাজতে কোনও ভারতীয় পাইলট নেই। এগুলো সোশাল মিডিয়ার গুজব। এটি ভুয়া খবর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একাধিক উৎসের অংশ যা একাধিক উৎস থেকে তৈরি করা হয়েছে।"
DGISPR-এর এই বক্তব্য যাবতীয় জল্পনা ওড়াল। ভারতের যুদ্ধবিমান পাকিস্তান গুলি করে নামিয়েছে এবং ভারতীয় বায়ুসেনার এক মহিলা পাইলট তাদের হেফাজতে আছে বলে গুজব ছড়ায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপ, যেখানে স্থানীয়দের পাহাড়ে ছুটে যাওয়ার এবং ভারতীয় পাইলটকে প্যারাসুটের মাধ্যমে পাহাড়ে অবতরণ করতে দেখেছে বলে দাবি করা হয়েছে, তাও সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। ইসলামাবেদের এক বাসিন্দা জুবের বলেন, "পাকিস্তান সরকার এবং নিরাপত্তাবাহিনীকে উদ্ধৃত করে অলজাজিরা বলেছে, ভারতীয় পাইলটকে ধরা হয়েছে এবং দুটি যুদ্ধবিমান গুলি করে নামানো হয়েছে। সোশাল মিডিয়ায় ভিডিও ছড়িয়েছে। যেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে কাশ্মীরের কোটলির মানুষ ভারতীয় পাইলটের খোঁজে পাহাড়ের দিকে ছুটে যাচ্ছেন। যাকে প্যারাসুটে নামতে দেখেছেন তাঁরা।"
কোটলির অপর এক বাসিন্দা বলেন, "আমাদের মনে আছে কীভাবে ভারতীয় উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে বন্দি করা হয়েছিল। এবং সেই সময়ে, 'চা অসাধারণ' শব্দটি কীভাবে ভাইরাল হয়েছিল।" যদিও ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, অপারেশন সিঁদুরে অংশগ্রহণকারী সমস্ত আইএএফ পাইলট নিরাপদে আছেন।
এর পাশাপাশি 'অপারেশন সিঁদুর'-এ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান মিরাজ, বলে আজ নিশ্চিত করে জানিয়ে দেওয়া হয় ভারতের তরফে। ভারতীয় সেনার শেয়ার করা একটি ভিডিওয় পাকিস্তানি মিরাজের ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে। এদিন রাজধানীয় বুকে উচ্চস্তরীয় সাংবাদিক বৈঠকে 'অপারেশন সিঁদুর'-এর বিস্তারিত বর্ণনা দেন ভারতীয় সেনা, বায়ুসেনা ও নৌবাহিনীর সিনিয়র কমান্ডাররা। গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরীহ পর্যটকের মৃত্যুর প্রত্যাঘাতে গত ৭ মে এই অপারেশন চালায় ভারত। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈবা এবং পাকিস্তানের সামরিক প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ যোগসূত্রর কথা জানিয়েছে।