জয়পুর : সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর গতিবিধির ফুটেজ এবং উস্কানিমূলক কন্টেন্ট শেয়ার করার অভিযোগ এবার রাজস্থান থেকে দুই জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। রাজস্থানে চুরু ও বারমের জেলা থেকে তাদের পাকড়াও করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার জয় যাদব জানিয়েছেন, চুরুর বজ্রগসারের ২২ বছর বয়সী আসিফ খানকে শুক্রবার সর্দারশহর পুলিশ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে উস্কানিমূলক দেশবিরোধী বিষয়বস্তু পোস্ট করার জন্য গ্রেফতার করেছে। ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধির আবহে সাইবার ডেস্ক টিম সোশ্যাল মিডিয়ার উপর নিবিড় নজরদারি চালাচ্ছিল। নজরদারি চলাকালীন, আধিকারিকরা দেখতে পান যে, খান তার সোশ্যাল মিডিয়ায় উস্কানিমূলক ভিডিও এবং ছবিতে লাইক, শেয়ার এবং আপলোড করছে। যার পরে তাকে খুঁজে বের করে গ্রেফতার করা হয়।
আরেকটি পৃথক ঘটনায়, বালোতারা জেলার গিদা এলাকার পুনিও কা তালার বাসিন্দা ২২ বছর বয়সী জিয়া রাম মেঘওয়ালকে বারমের পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেনাবাহিনীর গতিবিধির একটি ভিডিও শেয়ার করার অভিযোগে। জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পর ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘাতের পটভূমিতে এই গ্রেফতার করা হয়েছে। বারমেরের এসপি নরেন্দ্র সিং মীনা বলেছেন, "কেন্দ্রীয় সরকার সামরিক কার্যকলাপ সম্পর্কিত যে কোনো ছবি বা ভিডিও প্রচার নিষিদ্ধ করেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর গতিবিধির একটি ভিডিও অনলাইনে প্রচার করার অভিযোগে মেঘওয়ালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ করার এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করতে পারে বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত করতে পারে এমন কোনও বিভ্রান্তিকর, উস্কানিমূলক বা সংবেদনশীল বিষয়বস্তু পোস্ট বা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকার জন্য আবেদন করেছে।"
এর আগে, প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB) নাগরিকদের শুধুমাত্র যাচাইকৃত উৎসের উপর নির্ভর করতে এবং কোনও অযাচাইকৃত বিষয়বস্তু শেয়ার করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিল। নির্দেশিকা মেনে চলা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ সাইবার নজরদারি এবং পর্যবেক্ষণ অভিযান চলছে।
'অপারেশন সিঁদুরের' পর থেকে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর নাগাড়ে গোলাগুলি বর্ষণ করছে পাকিস্তান। পাল্টা জবাব দিচ্ছে ভারতীয় সেনাও। এই আবহে ভবিষ্যতে ভারত আরও কীভাবে পাকিস্তানকে পাল্টা জবাব দেবে তা নিয়ে আলোচনার জন্য এদিন জরুরি বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, সিডিএস জেনারেল অনিল চৌহান ও তিন বাহিনীর প্রধানরা। এর পাশাপাশি সামরিক কমান্ডার এবং কৌশলবিদদের সঙ্গেও এদিন প্রধানমন্ত্রী বিস্তারিত আলোচনা সেরেছেন। সূত্রের খবর, আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন বায়ুসেনা প্রধান, সেনাপ্রধান এবং নৌবাহিনী প্রধানরা।