নয়াদিল্লি: ভারতের বন্ধুদেশের সঙ্গে এবার সামরিক চুক্তি স্বাক্ষর করল পাকিস্তান। সৌদি আরবের সঙ্গে ‘Strategic Mutual Defense Agreement’ স্বাক্ষরিত হয়েছ তাদের। বলা হয়েছে, বহির্শত্রুর আগ্রাসন সামাল দিতে এবং দুই ইসলামি দেশের মধ্যে নিরাপত্তাক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক মজবুত করতেই এই চুক্তি। (India-Pakistan Conflict)
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ রিয়াধ সফরে গিয়েছেন। সেখানে সৌদির যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও হয় তাঁর। আর তার পরই সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা হয়। দুই দেশের তরফে যৌথ বিবৃতি জারি করেবলা হয়, ‘উপমহাদেশের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার্থে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দুই দেশ। পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতেই এই চুক্তি, যাতে একসঙ্গে আগ্রাসনের মোকাবিলা করা যায়’। (Saudi Arabia-Pakistan Defense Deal)
ওই চুক্তিতে বলা রয়েছে, সৌদি আরব বা পাকিস্তান, যে দেশেরই উপরই আক্রমণ নেমে আসুক না কেন, তা অন্য দেশটির উপরও হামলা হিসেবে গণ্য হবে। এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব ও পাকিস্তান এতদিন যে মৌখিক সম্পর্ক ছিল, তা আরও দৃঢ় হল বলে মনে করা হচ্ছে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সৌদির এক আধিকারিক বলেন, “এটি একটি সার্বিক সামরিক চুক্তি।” তবে পাকিস্তানের পরমাণু শক্তি এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত কি না, তা খোলসা করেননি তিনি।
গত ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের দোহায় রকেট বর্ষণ করে ইজরায়েল। এর পরই OIC দেশগুলি যৌথ সম্মেলনে নামে। তার পর পরই এই চুক্তি নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, তেমনই Operation Sindoor-এর পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তিক্ততা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, সেক্ষেত্রে ভারতের বন্ধুদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের এই চুক্তি নিয়েও কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। যদিও সৌদি ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা নতুন কিছু নয়। ১৯৬৭ সাল থেকে সৌদির প্রায় ৯ হাজার সৈনিককে পাকিস্তানই প্রশিক্ষণ দিয়েছে। একসঙ্গে বার বার যৌথ মহড়াও দিয়েছে তারা।
তবে সৌদির সঙ্গে পাকিস্তানের এই সামরিক চুক্তি দিল্লির অস্বস্তি বাড়িয়েছে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক চুক্তির খবর দেখেছি আমরা। সরকার বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিল। ওই চুক্তির কৌশলগত দিক থেকে এবং নিরাপত্তাক্ষেত্রে ওই চুক্তির প্রভাব খতিয়ে দেখা হবে। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা এবং উপমহাদেশ তথা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার উপর কী প্রভাব এই চুক্তির প্রভাবও দেখা হবে পর্যালোচনা করে। ভারত নিজের জাতীয় স্বার্থ এবং নিরাপত্তা রক্ষার্থে বদ্ধপরিকর।”