নয়াদিল্লি: সরকার বিরোধী আন্দোলনে তপ্ত ইরান। মৃত্যুসংখ্যা বেড়ে চলেছে লাগাতার। দেদার ধরপাকড়, গ্রেফতারও চলছে। পরিস্থিতি এতটাই চরমে উঠেছে যে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে আমেরিকাও। সেই আবহেই ভারতীয়দের উদ্দেশে সতর্কবার্তা এল। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের তরফে সকলকে সতর্ক করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ইরান যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করতে বলা হয়েছে সকলকে। ইরানে থাকা ভারতীয়দের নিরাপদে বেরিয়ে আসতেও বলা হয়েছে। (India on Iran)
নয় নয় করে তিন সপ্তাহ ধরে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ চলছে ইরানে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭০০ মানুষ মারা গিয়েছেন বলে খবর। আটক করা হয়েছে ২৫০০ বিক্ষোভকারীকে। জায়গায় জায়গায় পুলিশ ও নিরাপত্তবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ বেঁধেছে। স্লোগান উঠেছে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধেও। এমন পরিস্থিতিতে ইরানে হস্তক্ষেপ করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। পাল্টা আমেরিকার সেনার উপর হামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানও। (Iran Protests)
এমন পরিস্থিতিতে ভারতীয়দের সতর্ক করল দিল্লি। বিদেশমন্ত্রকের তরফে বিবৃতি জারি করে বলা হয়, 'ইরানে এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি, তাতে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ইরান যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হচ্ছে ভারতীয়দের'। ইরানে ভারতীয় দূতাবাসের তরফেও সকলকে সতর্ক করা হয়েছে। ভারতীয় পড়ুয়া, পুণ্যার্থী, ব্যবসায়ী, পর্যটক যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরে যেতে বলা হয়েছে।
এর আগে, গত ৫ জানুয়ারিও ইরান সফর নিয়ে ভারতীয়দের সতর্ক করে বিদেশমন্ত্রক। খুব প্রয়োজন না থাকলে ইরান যাওয়া উচিত নয় বলে জানানো হয়। ইরানে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের সতর্কতা অবলম্বন করতে বলে তারা। বিক্ষোভ-আন্দোলন থেকে দূরে থাকতে বলা হয়। এড়িয়ে চলতে বলা হয় অশান্ত এলাকা।
ইরানে এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি, তাতে উদ্বেগ ছড়িয়েছে গোটা পশ্চিম এশিয়াতেই। বিক্ষোভকারীরা সরাসরি আয়াতোল্লার মৃত্যু কামনা করছেন, 'স্বাধীন ইরানে'র দাবি তুলছেন। তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। বিক্ষোভকারীদের প্রতি যদি এহেন কড়া আচরণ বজায় রাখে ইরান, তাহলে আমেরিকা সামরিক পদক্ষেপ করতে পারে বলেও জানিয়েছেন। সেক্ষেত্রে ইজ়রায়েলও ইরানে আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি আড়াআড়ি বিভক্ত হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।