কলকাতা: NEP বা জাতীয় শিক্ষানীতির আওতায় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম শ্রেণিতে তিন-ভাষা নীতি চালুর ঘোষণা করেছিল CBSE বা সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন। তবে এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই অভিভাবক, পড়ুয়া এবং স্কুলগুলির মধ্যে একাধিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে, যেসব পড়ুয়া ইতিমধ্যেই দুটি বিদেশি ভাষা পড়ছে, তাদের কী হবে, বর্তমান ব্যাচের পড়ুয়াদের কি মাঝপথে বিষয় বদলাতে হবে এবং তৃতীয় ভাষার জন্য মাধ্যমিক স্তরে বোর্ড পরীক্ষা দিতে হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। এবার সেই সমস্ত প্রশ্নেরই বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে CBSE।
আরও পড়ুন: কোন কারণে তারাতলার নির্মীয়মান গোডাউন হয়ে উঠেছিল 'ত্রাসের ঘর'? অনুসন্ধানে উঠে এল কী কী গাফিলতি?
বোর্ড জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দশম শ্রেণিতে থাকা পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন হবে না। তারা আগের মতোই দুই-ভাষা পদ্ধতিতেই পড়াশোনা শেষ করবে। একই সঙ্গে বর্তমান সপ্তম, অষ্টম এবং নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য এককালীন ছাড় দেওয়া হয়েছে। যারা ইংরেজির পাশাপাশি ফরাসি বা জার্মানের মতো বিদেশি ভাষা পড়ছে, তারা সেই বিষয় বজায় রাখতে পারবে। শুধু অতিরিক্ত একটি ভারতীয় ভাষা যোগ করতে হবে।
CBSE আরও স্পষ্ট করেছে, তৃতীয় ভাষার বোর্ড পরীক্ষার নিয়ম শুধুমাত্র ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া নতুন ব্যাচের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। বর্তমান ট্রানজিশন ব্যাচের জন্য তৃতীয় ভাষার মূল্যায়ন অভ্যন্তরীণভাবেই হবে।
নতুন নির্দেশিকায় আরও জানানো হয়েছে, বর্তমান নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য আর ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যবই ব্যবহার করতে হবে না। তাদের জন্য শ্রেণি উপযোগী শিক্ষাসামগ্রী সরবরাহ করা হবে। অন্যদিকে, ২০২৬-২৭ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া পড়ুয়াদের জন্য ২২টি তফসিলভুক্ত ভারতীয় ভাষায় আলাদা পাঠ্যবই চালু করা হবে।
এছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পড়ুয়া, বিদেশ থেকে ভারতে ফেরা শিক্ষার্থী এবং বিদেশে অবস্থিত CBSE স্কুলগুলির জন্য আগের মতোই ছাড়ের ব্যবস্থা বহাল থাকবে। নতুন নির্দেশিকার ফলে তিন-ভাষা নীতি বাস্তবায়ন নিয়ে স্কুল এবং অভিভাবকদের অনেকটাই বিভ্রান্তি দূর হবে বলে মনে করছে CBSE।
