কলকাতা:  সাতটি BMW গাড়ি কিনতে চেয়ে দরপত্র ডাকল লোকপাল! যার জন্য খরচ হবে প্রায় ৫ কোটি টাকা!

Continues below advertisement

সূত্রের দাবি, ২ সপ্তাহের মধ্যে ৭টি সাদা BMW যাতে দিল্লির বসন্তকুঞ্জের অফিসে পৌঁছে দেওয়া হয়, সে কথাও বলা হয়েছে নথিতে। লোকপালের এই লাক্সারি ইচ্ছে নিয়েই দেশজুড়ে উঠেছে বিতর্কের ঝড়।

প্রধানমন্ত্রী, তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য, সাংসদ, আমলাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে, তার তদন্ত করা এবং পদক্ষেপ নেওয়াই তাদের কাজ। এবার সেই লোকপালই বিতর্কের কেন্দ্রে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য নয়। নিজেদের জন্য প্রায় ৫ কোটি টাকার বিলাসবহুল BMW গাড়ি চেয়ে! লোকপালের তরফে BMW থ্রি সিরিজ়ের 330 LI মডেলের গাড়ি কেনার জন্য দরপত্র ডাকা হয়েছে। সূত্রের দাবি, ২ সপ্তাহের মধ্যে ৭টি সাদা BMW যাতে দিল্লির বসন্তকুঞ্জের অফিসে পৌঁছে দেওয়া হয়, সে কথাও বলা হয়েছে নথিতে। BMW-র যে মডেলের গাড়ি কেনার জন্য লোকপালের তরফে দরপত্র ডাকা হয়েছে, তার প্রতিটি গাড়ির দাম প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ সাতটি গাড়ির দাম পড়বে প্রায় ৫ কোটি টাকা। লোকপালের এই লাক্সারি ইচ্ছে নিয়েই এখন বিতর্কের ঝড় উঠেছে। কংগ্রেসের কটাক্ষ লোকপাল এখন শোকপাল! তৃণমূল খোঁচা দিয়ে বলছে, 'লোকপালের লাক্সারি'! তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাকেত গোখলে এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘লোকপালের বার্ষিক বাজেট ৪৪ কোটি ৩২ লক্ষ। এখন লোকপাল তার সদস্যদের জন্য ৭টি বিলাসবহুল BMW গাড়ি কিনতে চাইছে, যার জন্য খরচ হবে প্রায় ৫ কোটি টাকা। যা কিনা বার্ষিক বাজেটের ১০ শতাংশের সমান। লোকপালকে বলা হয় দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা। তাহলে দুর্নীতিগ্রস্ত লকপাল নিয়ে কে তদন্ত করবে?’ নিজের দলের সাংসদের এক্সপোস্টটি নিজের এক্স হ্যান্ডলে শেয়ার করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও লোকসভার সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেছেন, ‘দেশের সর্বোচ্চ জায়গায় দুর্নীতি ধরতে যাদের বসানো হল, তাঁরা এখন বলছেন বিএমডব্লিউ গাড়ি চড়ব। সাধারণ মানুষ তাঁদের অ্যাকশন দেখতে চায়, তাঁদের বিলাসিতা দেখতে চায় না।’

Continues below advertisement

দুর্নীতি ঠেকাতে তৈরি লোকপাল এতদিনে কী করেছে? কতজনকে গ্রেফতার করেছে? সেই খতিয়ান চেয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে কংগ্রেস। পাশাপাশি তাঁদের প্রশ্ন, নরেন্দ্র মোদি যেখানে ভোকাল ফর লোকালের ডাক দিচ্ছেন, তখন লোকপাল বিদেশি বিলাসবহুল গাড়ি চড়তে চাইছেন কেন? কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ বলেছেন, ‘আমরা সকলেই জানি লোকপালে বসানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পছন্দের লোককে। লোকপাল তো শোকপাল।’

লোকপালের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন প্রাক্তন আমলাও! প্রাক্তন IAS অফিসারজহর সরকার বলেছেন, ‘লোকপাল কী করেছে? কিছু করেনি। দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছে? দুর্নীতি নিয়ে এত অভিযোগ জমা পড়েছে। এরা সবাই মোদির অনুগামী।’

বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ ও রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য অবশ্য বিরোধীদের একহাত নিয়েছেন। বলেছেন, ‘এরকম কোনও গাড়ি লোকপাল চড়বে বলে আমার জানা নেই। ওসব ট্যুইট করার আগে একবার গ্রামে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস  নেতাদের বাড়িগুলো দেখে একটা এসটিমেট করুন।’