নয়া দিল্লি: সংঘর্ষবিরতি ঘোষণার পরও তা লঙ্ঘন করে ভারতের দিকে গোলাগুলি চালিয়েছে পাকিস্তান। ভারতও বুঝিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তান যে ভাষা বোঝে উত্তর দেওয়া হবে সেই ভাষাতেই। পাকিস্তানের নাম না করে বারবার হুঙ্কার ছেড়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সূত্রের দাবি, কড়া বার্তায় প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, গুলি চললে, গোলা চলবে। সেই সঙ্গে জঙ্গিদের মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
২২ এপ্রিলে বৈসরনে হামলার পর থেকেই অশান্ত ছিল পাক অঞ্চল সংলগ্ন ভারতের একাধিক সীমান্ত। সংঘর্ষবিরতির পরও অশান্ত হয় একাধিক সীমান্তবর্তী এলাকা। তবে রবিবার ‘শান্ত’ রাত কাটল জম্মু কাশ্মীরে। নিয়ন্ত্রণরেখা ও আন্তর্জাতিক সীমান্তে শোনা যায়নি গুলির শব্দ। সীমান্তের ওপার থেকে উড়ে আসেনি গোলা। গতকাল কাশ্মীর উপত্যকায় কোনও ব্ল্যাকআউটও হয়নি, এমনটাই জানিয়েছে ভারতীয় সেনা।
তবে সুরক্ষার খাতিরে আজ পর্যন্ত সব স্কুল-কলেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। এখন অপেক্ষা DGMO পর্যায়ের বৈঠকের। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ায় সেফ হাউস থেকে অনেকেই বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। সীমান্তে এখনও কড়া প্রহরা। সেনার তরফে গতকালের রাতকে ‘গত কয়েক দিনে প্রথম শান্ত রাত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওয়াকিবহাল মহলের মত, পাকিস্তান অবশ্য আছে পাকিস্তানেই। তারা ভারতের ক্ষতি করার চেষ্টা চালিয়েই যাচ্ছে। পাঞ্জাব সীমান্তে ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র পাচারের চক্রান্ত করেছিল পাকিস্তান । তবে তার পর্দাফাঁস করেছে বিএসএফ ও পুলিশ। জম্মুর আর এস পুরা সেক্টরে এখনও দেওয়ালে গেঁথে রয়েছে LOC-র ওপার থেকে ফায়ার করা পাক মর্টার। এই প্রেক্ষাপটে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সেনা।পাকিস্তান সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করলে প্রত্যাঘাতের জন্য পশ্চিম সীমান্তের কমান্ডারদের পূর্ণ ক্ষমতা দিয়েছেন সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী।
ভারতীয় বায়ুসেনা জানিয়ে দিয়েছে, এখনও শেষ হয়নি 'অপারেশন সিঁদুর'। এদিকে ভারত-পাক সংঘর্ষবিরতি শুরু হওয়ার পর আজ প্রথম দুই দেশের DGMO স্তরের বৈঠক। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বেলা ১২টা নাগাদ এই বৈঠক হবে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই জারি থাকবে বলে বৈঠকের আগেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত। ভবিষ্যতে ভারত-পাক আলোচনা হবে পাক অধিকৃত কাশ্মীর ফেরত পাওয়া নিয়ে, গতকাল ভারত জানিয়েছে।