নয়াদিল্লি: সিঙ্গাপুরে কর্মরত ভারতীয় নার্সের জেল। ওই পুরুষ নার্সকে এক বছর দু’মাসের কারাবাসের সাজা শুনিয়েছে আদালত। সেই সঙ্গে চাবুক পেটাও করা হবে তাকে। হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় রোগীর আত্মীয়, এক যুবককে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। সেই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছে ওই নার্স। (Indian Nurse Jailed in Singapore)

Continues below advertisement

ভারতীয় নাগরিক, ৩৪ বছর বয়সি এলিপে শিব নাগু দোষী সাব্যস্ত হয়েছে সিঙ্গাপুরে। সেখানকার রাফেলস হাসপাতালে কর্মরত ছিল এলিপে। জানা গিয়েছে, চলতি বছরের জুন মাসে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন এক বৃদ্ধ। হাসপাতালে ওই বৃদ্ধকে দেখতে আসেন তাঁর নাতি।  ‘ডিসইনফেক্ট’ করার বাহানায় ওই বৃদ্ধের নাতিকে এলিপে শ্লীলতাহানি করে বলে জানা যায়। (Singapore News)

The Straits Times জানিয়েছে, অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালের তরফে ওই ভারতীয় নার্সকে সাসপেন্ড করা হয়। আদালতে নিগৃহের শিকার যুবক জানান, ওই ঘটনা তাঁর মনের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। বার বার ভয়ঙ্কর ঘটনাই মনে পড়তে থাকে তাঁর। 

Continues below advertisement

নিগ্রহের শিকার যুবক আদালতে জানান, আচমকা ওই ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে যান তিনি। নড়াচড়ার শক্তি হারান। কোনও রকমে দাদুর শয্যার পাশে গিয়ে বসেন। এর পর কী ঘটে, তা জনসমক্ষে আনেনি আদালত। তবে ২১ জুনই এলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান নিগৃহীত যুবক। এর দু’দিন পর এলিপে-কে গ্রেফতার করে পুলিশ। নিগৃহীত যুবকের নাম-পরিচয়ও গোপন রেখেছে আদালত।

সিঙ্গাপুরের সরকারি কৌঁসুলি ইউজিনি ফুয়া জানান, গত ১৮ জুন নর্থ ব্রিজ রোডে অবস্থিত ওই হাসপাতালে যান নির্যাতিত যুবক। সেখানে তাঁর দাদু ভর্তি ছিল।সন্ধে ৭.৩০টা নাগাদ টয়লেটে ঢোকেন তিনি। সেখানেও উঁকি দিয়ে তাঁকে দেখছিল এলিপে। টয়লেট থেকে বেরনোর সময় ‘ডিসইনফেক্ট’ করার বাহানায় তাঁর হাতে সাবান তুলে দেওয়া হয় প্রথমে। এর পরই অশ্লীল ভাবে তাঁকে স্পর্শ করে এলিপে।

গত কয়েক মাস ধরে সিঙ্গাপুরের একটি আদালতে এই মামলায় শুনানি চলছিল। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার এলিপেকে সাজা শোনানো হয়। এক বছর দু’মাস জেলে কাটাতে হবে তাকে। পাশাপাশি, দুই দফা চাবুকও মারা হবে। আদালতে দাঁড়িয়ে দোষ স্বীকার করেন নেন এলিপে। 

দেশের অন্দরে একের পর এক যৌন নির্যাতনের ঘটনা আসছে যখন, গত কয়েক মাসে বিদেশ থেকেও ভারতীয়দের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। এর আগে সিঙ্গাপুরেই দুই ভারতীয় যুবকের বিরুদ্ধে কয়ক জন তরুণীকে হেনস্থা করা, তাঁদের পিছু নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।