ভদোদরা : তীব্র গরমে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা। যান্ত্রিক সমস্যার কারণে রাতের বিমানে প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলল। যার জেরে চরম নাকাল হলেন যাত্রীরা। ভদোদরা থেকে দিল্লীগামী ইন্ডিগোর বিমানে এই সমস্যা দেখা যায় রবিবার রাতে।

Continues below advertisement

ঘটনা কী ?

রবিবার রাত ৮ টা ৪০ মিনিট নাগাদ ভদোদরা থেকে উড়ানের কথা ছিল ইন্ডিগোর 6E 657 বিমানের। বিমানে তখন প্রায় ১৬০ জন যাত্রী। দাঁড়িয়ে থাকা বিমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা গ্রাউন্ড পাওয়ার ইউনিট (GPU) বিমানটির উড়ানের আগে কাজ করা থামিয়ে দেয়। সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রের খবর। 

Continues below advertisement

যান্ত্রিক এই সমস্যা ঠিক করতে ১২ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে ইঞ্জিনিয়ারদের। বিমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য আরও ১৫ মিনিট প্রয়োজন পড়ে। ততক্ষণ পর্যন্ত চরম নাকাল হতে হয় যাত্রীদের। এক আধিকারিক বলেন, "এই আধ ঘণ্টায়, কেবিন সম্পূর্ণ অন্ধকারে ঢেকে যায়। এসিও কাজ না করায় যাত্রীরা ঘামতে থাকেন।" এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট পর্বে যাত্রীরা বিমানের মধ্যেই ছিলেন। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি ছাড়ার কথা ছিল রাত ৮ টা ৪০ মিনিট নাগাদ। কিন্তু, শেষমেশ রাত ১০টা নাগাদ ছাড়ে। যার জেরে ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট দেরিতে চলে বিমানটি।

গত এপ্রিল মাসেও অন্য এক বিমানে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয় যাত্রীদের। শিহরণ জাগানো আতঙ্ক ছড়ায়।

বিমান তখন মাঝ-আকাশে। হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারায় Fly91। যার জেরে চরম আতঙ্ক ছড়ায়। যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা আকাশেই চক্কর কাটে বিমানটি। আর তাতে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এক মহিলা যাত্রী। আতঙ্কে কার্যত কাঁপছিল তাঁর গোটা শরীর। হাতজোড় করে সমানে বিড়বিড় করে প্রার্থনা করতে থাকেন। চোখ দিয়ে নাগাড়ে জল গড়াতে থাকে তাঁরে। বারবার ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিলেন। সেই ঘটনার ভিডিও সামনে আসে। বারবার তাঁর মুখ থেকে বেরিয়ে আসে "হে ঈশ্বর"।

ভিডিওয় অপর একজনকে বলতে শোনা যায়, "কেন উনি এমন করছেন।" অপর একজন বলতে থাকেন, "কেঁদো না, কেঁদো না, কিছু হবে না, থামো।"

দুপুর ৩টে নাগাদ হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে উড়ান শুরু করে Fly91 এয়ারলাইন্সের বিমান IC3401 । হুব্বাল্লিতে অবতরণের কথা ছিল বিকাল সাড়ে ৪টা নাগাদ। কিন্তু, হুব্বাল্লির কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার পর হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় বিমানে। যার জেরে অবতরণ প্রক্রিয়া বাতিল করতে বাধ্য হন পাইলট। প্রায় চার ঘণ্টা আকাশেই উড়তে থাকে বিমান। পরিস্থিতির মোকাবিলা করে নিরাপদে অবতরণের চেষ্টা করছিলেন পাইলট। এই পরিস্থিতিতে চরম আতঙ্ক ছড়ায় যাত্রীদের মধ্যে। অনেকেই প্রার্থনা শুরু করে দেন। কান্নায় ভেঙে পড়েন।