ওয়াশিংটন: এবার ইরান এবং ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানালেন, সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে দুই দেশই। তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করলেও, এখনও তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী ছয় ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যেই যুদ্ধ শেষ বলে নিশ্চিন্ত হতে পারবেন সকলে। (Iran-Israel Ceasefire)

ইরানন বনাম ইজরায়েলের সংঘাতে সম্প্রতি নিজেকে জড়িয়ে নেয় আমেরিকাও। ইরানের তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রে হামলা চালায় তারা। এর ফল কী হবে, তা বিচার-বিশ্লেষণের মধ্যেই, কয়েক ঘণ্টা আগে কাতারে আমেরিকার সেনাঘাঁটিতে হামলা চালায় তেহরান।  আর তার পরই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করলেন ট্রাম্প। CNN জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতিতে কাতার মধ্য়স্থতা করেছে।

কিছু ক্ষণ আগেই ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘সকলকে অভিনন্দন! ইরান এবং ইজরায়েল পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে'। তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হলেও, এখনও ইরান এবং ইজরায়েল সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, যে অভিযান চলছে, তা শেষ হওয়ার অপেক্ষা। তার পরই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। তাঁর বক্তব্য, 'আগামী ছ’ঘণ্টার মধ্যে, ইজরায়েল এবং ইরান সব অভিযান সম্পূর্ণ করে ফেলবে, চূড়ান্ত অভিযান সম্পূর্ণ হবে’। (Iran-Israel War)

ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান এবং ইজরায়েল, দুই দেশই সরকারি ভাবে যুদ্ধবিরতির দিকে এগোবে। আর তাতেই ১২ দিন ব্যাপী যুদ্ধে ইতি পড়বে। যুদ্ধের এই সমাপ্তিকে সকলেই সেলাম জানাবেন বলে আশাবাদী ট্রাম্প। ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির সময় শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখবে দুই দেশ, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে তারা।  দুই  দেশকেই তাদের শক্তি, সাহস এবং বুদ্ধিমত্তার জন্য অভিনন্দনও জানিয়েছেন তিনি। এই গোটা পরিস্থিতিকে তিনি ‘The 12 Day War’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘এই যুদ্ধ বেশ কয়েক বছর ধরে চলতে পারত, গোটা পশ্চিম এশিয়াকে ধ্বংস করে দিতে পারত। কিন্তু তা হয়নি, হবেও না কখনও। ঈশ্বর ইজরায়েলকে আশীর্বাদ করুন, ইরানকেও আশীর্বাদ করুন, আশীর্বাদ করুন পশ্চিম এশিয়াকে। আমেরিকাকে আশীর্বাদ করুন ঈশ্বর, গোটা বিশ্বকে আশীর্বাদ করুন’। (Donald Trump)

CNN জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আমেরিকার তরফেই দেওয়া হয়, যাতে মধ্যস্থতা করে কাতার। কাতারে আমেরিকার সেনাঘাঁটিতে ইরান হামলা চালানোর পর, দেশের এমিরকে মধ্যস্থতা করতে অনুরোধ জানান খোদ ট্রাম্পই।  সেই মতো কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মহম্মদ বিন আব্দুলরহমান বিন জসিম আল-থানি ইরানকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করান। এর পর ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন।

হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, ইরান হামলা না চালালে, তারাও হামলা চালাবে না বলে জানিয়েছে ইজরায়েল। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, দেশের বিদেশ সচিব তথা জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ তৃতীয় পক্ষ মারফত ইরানের সঙ্গে কথাবার্তা চালান।  অন্য দিকে, ইরান জানিয়েছে, কোনও আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি এখনও পর্যন্ত। তবে ইজরায়েল হামলা না চালালে, তারাও আর হামলা চালাবে না।