নয়াদিল্লি : থামার কোনও লক্ষণ নেই। উল্টে একে অপরের উদ্দেশে একের পর এক হুঙ্কার ছাড়ছে। 'ইরানের একনায়ক শাসকের বিরুদ্ধে সর্বত্র আঘাত হানবে ইজরায়েল', এবার এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। অন্যদিকে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সোমবার রাতে কঠোর বার্তা জারি করে ঘোষণা করেছে, "আজ রাতটা ইজরায়েলিদের দিনে পরিণত করে দেব।" উভয় দেশের মধ্যে এই চরম উত্তেজনার আবহে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইরানের সর্বোচ্চ নেতার চরম পরিণতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। এ ব্যাপারে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে ABC নিউজকে তিনি বলেন, "এ বিষয়ে ঢুকব না। " তবে, "দেশকে সুরক্ষিত করার জন্য যা করার করব", বলে মন্তব্য করেছেন নেতানিয়াহু।

গতকাল রাত থেকে তেহরানের আকাশে বারবার হানা দিয়েছে ইজরায়েলের ফাইটার জেট। ইরান দাবি করেছে, তৈল শোধনাগারের পাশাপাশি, পারমাণবিক কেন্দ্র এমনকী, ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় মিসাইল অ্যাটাক চালাচ্ছে ইজরায়েলি সেনা। এই পরিস্থিতিতে ইরানের রাষ্ট্রপোষিত সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইসফাহান পরমাণু কেন্দ্রে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সক্রিয় করে তুলেছে ইরান। এদিকে ইরানের 'একনায়ক শাসকের' অবসান ঘটাতে আরও হামলা চালানোর চরম বার্তা আগেই দিয়ে রেখেছে ইজরায়েল। কার্যত সম্মুখ-সমরে উভয় দেশ। 

সাম্প্রতিক খবর অনুযায়ী, ইজরায়েল বায়ুসেনার তেহরান লক্ষ্য করে আঘাতের জবাবে পাল্টা ইজরায়েলকে লক্ষ্য করে একগুচ্ছ মিসাইল ছুঁড়েছে ইরান। যদিও সেইসব মিসাইল নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে ইজরায়েলের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। এমনই দাবি করছে IDF (ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস)। উভয় দেশের একে অপরক্ষে টার্গেট করে এই হামলা-পাল্টা হামলার টানা ঘটনায় দিন দিন বাড়ছে নিহত ও আহতের সংখ্যাও। মিসাইল ও ড্রোন হামলার জেরে এখনও পর্যন্ত ইরানে অন্ততপক্ষে ২২৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহতের সংখ্যা ১২০০-র বেশি। এদিকে ইজরায়েলে নিহতের সংখ্যা অন্ততপক্ষে ২৪। ইরানের পাল্টা প্রত্যাঘাতে ইজরায়েলের আহতের সংখ্যা ৫৯২। ইজরায়েলের তেল আভিভ, জেরুজালেম, রমত গান, বাট ইয়াম-সহ একাধিক জায়গায় ব্যালিস্টিক মিসাইল দেগেছে ইরান। যার জেরে তেল আভিভে ঘন ঘন বেজে উঠছে সাইরেন ! তড়িঘড়ি বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে হয়েছে হাজার হাজার সাধারণ ইজরায়েলবাসীকে। তেল আভিভ-সহ একাধিক জায়গায় উঁচু উঁচু বাড়ি মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে তেহরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল। সব মিলিয়ে উভয় দেশের একে অপরকে লক্ষ্য করে টার্গেটে আহতের সংখ্যা প্রায় ১৮০০-র কাছাকাছি।