Iran Israel US War: ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল এবং আমেরিকার যুদ্ধ চলছে ১৫ দিন ধরে। সেই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী নিয়েও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জটিলতা। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্যান্য দেশগুলিকে আর্জি জানিয়েছেন যে, তারাও যেন হরমুজ প্রণালীকে নিরাপদে রাখার জন্য সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠায়। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, আমেরিকার নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা তেলের ট্যাঙ্কারগুলিতে দ্রুত 'এসকর্ট' করার ব্যবস্থা করবে। অর্থাৎ কার্যত পাহারা দিয়ে তেলের ট্যাঙ্কারগুলিকে হরমুজ প্রণালী থেকে বের করে আনা হবে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের লিখেছেন, 'বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে যারা ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একত্রিত হয়ে হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে যাতে সেটি খোলা রাখা যায় এবং নিরাপদে থাকে।'
ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সেনাবাহিনীর ক্ষমতা ১০০ শতাংশ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে এর পাশাপাশি ট্রাম্প একথাও স্বীকার করেছেন যে, তেহরানের পক্ষে হরমুজ প্রণালীতে দু-একটা ড্রোন পাঠিয়ে হামলা করা, মাইন পেতে দেওয়া কিংবা খুব কাছ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে হামলা করা বেশ সহজ ব্যাপার। যত বাজে ভাবেই ইরান হেরে যাক না কেন, এইসব উপায়ে তারা যে হরমুজ প্রণালীতে আক্রমণ করতে পারে, সেকথা শোনা গিয়েছে ট্রাম্পের তরফে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এও বলেছেন, 'আশা করছি চিন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউনাইটেড কিংডম ও অন্যান্য দেশ - যারা এই কৃত্রিম বাধার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ পাঠাবে, যাতে ওই জলপথের সাহায্যে এমন কোনও জাতি, যাদের পুরোপুরি ভাবে দমিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা আর ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে না পারে।'
মার্চ মাসের শুরু থেকেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। সংকীর্ণ এই জলপথের গুরুত্ব প্রচুর। বিশ্বের বাজারে যে পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা হয়, তার বেশিরভাগটাই রপ্তানি হয় এই জলপথের সাহায্যে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় তাই তেলের এবং গ্যাসের আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক বিরূপ প্রভাব পড়েছে। আকাল দেখা দিয়েছে জ্বালানির। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দামও।
