নয়াদিল্লি: পর পর জোরাল বিস্ফোরণে ফের কেঁপে উঠল ইরানের রাজধানী তেহরান। নতুন করে ইজ়রায়েল ফের হামলা চালাতে শুরু করেছে বলে জানা যাচ্ছে। ইরানে হামলা চালানোর কথা মেনে নিয়েছে ইজ়রায়েলও। তাদের দাবি, ইরানের 'সন্ত্রাসী শাসনের' অবসান ঘটাকে একেবারে হৃৎপিণ্ডে আঘাত করা হয়েছে। শনিবার আমেরিকার সঙ্গে মিলে ইজ়রায়েলই প্রথম হামলা চালায় ইরানে, যাতে মৃত্যু হয় ইরানের সর্বোচ্চ শাসক আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। (Tehran Explosion)
রবিবার নতুন করে তেহরানে হামলা চালিয়ে বিবৃতিও দিয়েছে ইজ়রায়েল। তাদের বক্তব্য, "ইজ়রায়েলি সেনা ইরানের সন্ত্রাসী শাসকের বিরুদ্ধে তেহরানে, ওদের হৃৎপিণ্ডে আঘাত হেনেছে। গতকাল থেকে আক্রমণের তীব্রতা বাড়ানো হয়েছে, যাতে আকাশপথে কর্তৃত্ব স্থাপন করা যায় এবং তেহরানের ভিতরে ঢোকা যায়।" (US-Israel Attack Iran)
সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ভিডিও সামনে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে, একাধিক জায়গা থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশ ছুঁয়ে ফেলছে প্রায়। ইজ়রায়েল নতুন করে তেহরানে হামলা চালানোয় প্রমাদ গুনছে পশ্চিম এশিয়া। কারণ আয়াতোল্লার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে ইতিমধ্যেই পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে হামলা চালাতে শুরু করেছে ইরান। দুবাই, আবু ধাবি, কাতার, বাহরাইন...যেখানে যেখানে আমেরিকার ঘাঁটি রয়েছে, সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তারা।
ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডস জানিয়েছে, ইরানের সেনা আগ্রাসী আক্রমণে অবতীর্ণ হবে। 'অধিকৃত' এবং আমেরিকার 'সন্ত্রাসী ঘাঁটি'গুলিই নিশানায় রয়েছে তাদের। আয়াতোল্লার হত্যার প্রতিশোধ নিয়ে বদ্ধপরিকর তারা। এমন পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির তরফে ইরানকে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। তাদের বক্তব্য, "উপসাগরীয় দেশগুলিতে ইরানের এই আগ্রাসন বেহিসেবি এবং এই কঠিন সময়ে আরও একঘরে হয়ে পড়বে তারা। প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে যুদ্ধ নেই, এটা মনে রাখতে হবে। যুক্তিতে আসুন। দায়িত্বজ্ঞানের পরিচয় দিন।"
তবে নিজের অবস্থানে অনড় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আক্রমণের পাল্টা আঘাত করার অধিকার ইরানের রয়েছে বলে মত তাঁর। তিনি বলেন, "ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ন্যায় চায়। যারা ঐতিহাসিক অপরাধ ঘটানোর নির্দেশ দিয়েছে, তাদের কাছ থেকে ন্যায় বিচার আদায় করে নেওয়া, প্রতিশোধ চরিতার্থ করাকে কর্তব্য এবং বৈধ অধিকার বলে মনে করে ইরান এবং তার জন্য সব শক্তি উজাড় করে দেবে।"