নয়া দিল্লি: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তথা ধর্মগুরু আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন পরিণত হল গণ আন্দোলনে। আন্দোলনের আগুনটি জ্বলেছিল রাজধানী তেহরান থেকে। সেটি এখন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশে। গতকাল, বৃহস্পতিবার থেকে সেই আন্দোলন গণবিক্ষোভে কার্যত গণপ্রতিবাদে পরিণত হয়েছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ক্ষুব্ধ জনতা ইসফাহান শহরে অবস্থিত ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমের (IRIB) একটি ভবনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি, দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী বান্দর আব্বাসের রাজপথও নিজেদের দখলে নিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন এবং রাজপথ অবরোধ করে রেখেছেন। তাদের স্লোগানে শোনা যাচ্ছে, “এটাই শেষ যুদ্ধ, পাহলভি ফিরে আসবেন” এবং “স্বৈরাচারের মৃত্যু চাই”।
মূলত ইসলামি শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদেই উত্তাল ইরান। আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-বিরোধী স্লোগানে তপ্ত গোটা দেশ। ৪৭ বছর আগে ইরানে ইসলামি শাসনব্যবস্থার সূচনা হয়। নেপথ্যে ছিল ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব। ইরান পরিণত হয় একটি ইসলামি ধর্মতান্ত্রিক রাষ্ট্রে। এর নেতৃত্বে ছিলেন আয়াতোল্লা রুহুল্লাহ খামেনেই। তিনিই ইরানের ইসলামি শাসনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম সর্বোচ্চ নেতা।
ইসলামিকতন্ত্রের পাশাপাশি মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, পানীয় জলের সংকট নিয়ে ক্ষিপ্ত সাধারণ মানুষ।
এরই মধ্যে বেশ কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে এক মহিলার মুখ থেকে রক্তের মতো লাল রং বেরচ্ছে। ওই মহিলাকে বলতে শোনা যায়। “আমি ভয় পাই না। ৪৭ বছর ধরে আমি মৃত। ইসলামি শাসনে বীতশ্রদ্ধ। জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠছে।” আরেক মহিলার ছবি সোশালে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে খামেইনির ছবি জ্বালিয়ে সেই আগুনে সিগারেট ধরাচ্ছেন তিনি।
ইরানের এই পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর তথ্য অনুসারে, ইরানি মুদ্রার দরপতনের প্রতিবাদে টানা ১২ দিন ধরে অস্থিরতা চলছে, যা দেশটির ৩১টি প্রদেশের ১০০টিরও বেশি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক হিউম্যান রাইটস্ অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি বা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, কমপক্ষে ৩৪ জন বিক্ষোভকারী - যার মধ্যে পাঁচজন শিশু - এবং আটজন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও দুই হাজার ২৭০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।