নয়া দিল্লি: সময় যত এগোচ্ছে ততই ঘনিয়ে আসছে সংকট। একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি তৈল শোধনাগারে বিস্ফোরণ ঘটাল ইজরায়েল। সংবাদসংস্থা রয়টার্স একটি রিপোর্টে জানিয়েছে, তেহরানের শাহরান তেল ডিপোতে ইসরায়েলি হামলা চালিয়েছে। তবে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আর যে ডিপোতে হামলা হয়েছে সেখানে জ্বালনির পরিমাণ কম ছিল।

এদিকে, ইরানের তেল ডিপোতে হামলার পর, ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন, যেখানে তিনি লিখেছেন - 'তেহরান জ্বলছে।' তিনি একটি ভিডিওও শেয়ার করেছেন, যেখানে বিশাল আগুন দেখা যাচ্ছে। ওই ভিডিও ফুটেজে তেহরান শহরের উপরে ঘন ধোঁয়ার মেঘ দেখা যাচ্ছে। তবে ইজরায়েলের দাবির পর, ইরান বলেছে যে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।  

এর আগে, ইরানের দক্ষিণে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে বিমান হামলা চালায় ইজরায়েল। এ ঘটনার পর গ্যাসক্ষেত্র এলাকায় ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে সেখানে।  

এদিকে, ইরানের মাটিতে ইজরায়েলের হামলায় পশ্চিম এশিয়ার ফের বেজে উঠেছে যুদ্ধের দামামা। যার জেরে সিঁদুরে মেঘ দেখছে ভারত। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এর জেরে বিশ্ববাজারে ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে জ্বালানি তেলের দাম। যুদ্ধের জেরে বিশ্বের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম শনিবার ৬ ডলার বেড়ে পৌঁছে গিয়েছে ৭৮ ডলার প্রতি ব্যারেল। এই যুদ্ধ আগামী দিনে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে বাণিজ্য। যার প্রভাব সরাসরি পড়বে ভারতের উপর।

ইরান বিশ্বের অন্যতম তেল রপ্তানিকারক দেশ। ভারত-সহ বিভিন্ন দেশে এখান থেকেই তেল সরবরাহ করা হয়। আর সেক্ষেত্রে মূল পথ হিসেবে ব্যবহার করা হয় হরমুজ প্রণালীকে। বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করা হয় এই অঞ্চল দিয়ে। ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। এর জেরে ভারতে তেল সরবরাহ বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের আমদানি করা তেলের দুই-তৃতীয়াংশ এখান দিয়েই আসে। তাই সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলে দেশজুড়ে ফের বাড়বে তেলের দাম। গত দু’দিনেই তেলের দাম বেড়েছে ১১ শতাংশ। সংঘাত চলতে থাকলে ব্রেন্টের অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল পিছু ১০০-১২০ ডলার হতে পারে।