চেন্নাই: তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নয়া মোড়। সেখানে বিজেপি ছাড়ছেন কে আন্নামালাই। গত বছরও বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি ছিলেন তিনি। সোমবার দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার সঙ্গে দেখা করেন তিনি। তাঁকে নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। সূত্রের খবর, বিজেপি-তে নিজের কোনও ভবিষ্যৎ বা সুযোগ দেখতে পাচ্ছেন না আন্নামালাই। (K Annamalai)

Continues below advertisement

সদ্য সমাপ্ত তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি মাত্র একটিতে জয়ী হয়েছে। AIADMK-র সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে গতবছরই আন্নামালাইকে রাজ্য সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন বিজেপি নেতৃত্ব। তার পর বিধানসভা নির্বাচন মিটতেই গেরুয়া শিবিরের থেকে দূরত্ব বাড়াতে শুরু করে আন্নামালাইয়ের। (BJP News)

দিল্লি যেতে গতকাল যে গাড়িতে চেপে চেন্নাই বিমানবন্দরে পৌঁছন আন্নামালাই, তাতে বিজেপি-র পতাকাও ছিল না, দলের প্রতীকীচিহ্নও ছিল না। সেখানে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে পড়ে বলেন, “একটু অপেক্ষা করুন। আমরা বসব, দু’দিনের মধ্যে বসব।” আন্নামালাইয়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, বিজেপি-তে নিজের জন্য কোনও সুযোগ বা ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছেন না তিনি। তাই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন: আলোর ঝলকানি, জোর বিস্ফোরণ, দুলে উঠল চারপাশ, আমেরিকায় উল্কা বিস্ফোরণ, তীব্রতা ৩০০ TNT-র সমতুল্য

তাহলে কি অন্য দলে যোগ দেবেন আন্নামালাই, না কি নিজের পৃথক দল গড়বেন? দ্বিতীয় সম্ভাবনাই জোরাল বলেই জানা যাচ্ছে। প্রথমে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার লক্ষ্য রয়েছে তাঁর।  তার পর নিজের দলের সূচনা করবেন। ইতিমধ্যেই আন্নামালাইয়ের সমর্থকরা তাঁর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। আগামী ৪ জুন জন্মদিন আন্নামালাইয়ের। তার আদে জায়গায় জায়গায় তাঁর নামে পোস্টার, ব্যানার দেখা গিয়েছে, যাতে লেখা, ‘আমাদের নেতা, আমাদের দেবেন’।

৪১ বছর বয়সি আন্নামালাই প্রাক্তন IPS অফিসার। বিজেপি-র তরফে তাঁকে রাজ্যসভার টিকিটের প্রস্তাবও দেওয়া হয় বলে খবর। কিন্তু সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। আন্নামালাই যে আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা করছেন, তাতে সমমনস্ক, বিভিন্ন ক্ষেত্রের ইচ্ছুক মানুষরা শামিল হতে পারেন। আগে থেকেই ‘We Are The Leaders’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন চালান আন্নামালাই। সেটিও তাঁর রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে আন্নামালাই নিজের দল নিয়ে উপস্থিত হতে পারেন।

আরও পড়ুন: এই কি মহাপ্রলয়? ভয়ঙ্কর দৃশ্য মরুরাজ্যে, ধুলোঝড়ে ভরদুপুরে আঁধার নেমে এল, স্তব্ধ হয়ে গেল জনজীবন

বেশ কিছু দিন ধরেই বিজেপি-তে বেসুরো শোনাচ্ছিল আন্নামালাইকে। বেশ কিছু বিষয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। বিশেষ করে CBSE বোর্ডে তিন ভাষা বাধ্যতামূলক করা নিয়ে সরব হন। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি রয়েছে আন্নামালাইয়ের। IIM লখনউ থেকে MBA করেছেন। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর পুলিশের চাকরি বেছে নেন। কর্নাটকের IPS অফিসার থাকাকালীন ‘সিঙ্ঘম’ তকসা সেঁটে যায় তাঁর নামের পাশে। ২০২০ সালে বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তামিলনাড়ু বিজেপি-র সহ-সভাপতি করা হয় তাঁকে। এল মুরুগান কেন্দ্রে মন্ত্রী হওয়ার পর রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব হাতে পান। 

তামিলনাড়ুতে বিজেপি-র খুঁটি মজবুত করেন আন্নামালাই-ই। একেবারে তৃণমূলস্তরে বিজেপি-কে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। ব্যাপক প্রচার অভিযান চালান, দলের সংগঠনের প্রসার ঘটান। কিন্তু তার পরও বিজেপি নেতৃত্ব AIADMK-র সঙ্গে জোটে যাওয়ায় তিনি ক্ষুণ্ণ হন। জানা যায়, ই পালানিস্বামীর দাবি মেনেই আন্নামালাইকে রাজ্য সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। দলে ক্রমশ কোণঠাসা হতে শুরু করেন আন্নামালাই। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও অংশ নেননি তিনি। দলের প্রচারেও তেমন ভূমিকা ছিল না। এবার সরাসরি দল ছেড়ে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিলেন।