নয়াদিল্লি: আকাশ থেকে নেমে আসার সময় ছিন্নভিন্ন। তীব্র শব্দে কেঁপে উঠল চারিদিক। আমেরিকার আকাশে উল্কা বিস্ফোরণ ঘটল। বিস্ফোরণের তীব্রতা ছিল ৩০০ টন TNT-র সমতুল্য শক্তি। অর্থাৎ পরমাণু বোমার সমান প্রায়। ২০২০ সালে বেইরুট বন্দরে যে বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তাতে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, এক্ষেত্রেও তা হতে পারত বলে আশঙ্কা। (Meteor Blast)

Continues below advertisement

শনিবার আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস এবং সাউথ-ইস্টার্ন নিউ হ্যাম্পশায়ারের আকাশে এই ঘটনা ঘটেছে। দুপুর ২টো বেজে ৬ মিনিটে এই ঘটনা ঘটে। তীব্র শব্দে কেঁপে ওঠে চারিদিক। এমনকি নিউ ইংল্যান্ডেও ওই শব্দ পৌঁছয়। কেঁপে ওঠে চারপাশের বাড়িঘর। (Meteor Explosion)

NASA-র ডেপুটি নিউজ চিফ জেনিফার ডুরেন জানিয়েছেন, উল্কাবৃষ্টি থেকে ছিটকে আসেনি মহাজাগতিক বস্তুটি। কোনও কৃত্রিম উপগ্রহ বা মহাকাশযানের ধ্বংসাবশেষ নয়, বরং প্রকৃতিরই অংশ। বিস্ফোরণে যে তীব্রতার সৃষ্টি হয়, তার শক্তি ছিল ৩০০ TNT-র সমান। তাই অত তীব্র শব্দ শোনা যায়।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন: অভিষেককে নোটিস CID-র, তিনি বললেন, ‘মামলা করব’, ‘এবার সর্দারিটা দেখান, কটাক্ষ বিজেপি-র’

আমেরিকান মিটিওর সোসাইটি জানিয়েছে, তিন ফুট চওড়া একটি মহাজাগতিক বস্তু পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। ম্যাসাচুসেটস-নিউ হ্যাম্পশায়ারের সীমানায়, আকাশে বিস্ফোরণ ঘটে সেটির। সেই আলোর ঝলকানি মন্টরিয়াল, ডেলাওয়্যার থেকেও দেখা গিয়েছে বলে খবর। তীব্র শব্দে কেঁপে ওঠে মাটিও।

আরও পড়ুন: রাতের আকাশে 'ব্লু মুন', কখন দেখতে পাবেন?

আমেরিকান মিটিওর সোসাইটির প্রোগ্রাম মনিটর রবার্ট লান্সফোর্ড জানিয়েছেন, সাধারণ উল্কা বিস্ফোরণের চেয়ে এই ঘটনা আলাদা। আয়তনেও বড় ছিল সেটি। উল্কাখণ্ডটি মাটিতে আছড়ে পড়েনি বলেই মনে করা হচ্ছে। এ নিয়ে আরও তথ্য় পাওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি। সেটির গতি, দিশা এবং অন্যান্য খুঁটিনাটি জানার চেষ্টা চলছে। যদি মাটিতে আছড়ে পড়ে না থাকে, সেক্ষেত্রে সেটি মহাসাগরে পড়তে পারে। সাধারণত শূন্য়েই পুড়ে ছাই হয়ে যায় উল্কাখণ্ড।

তবে ওই এলাকার মানুষজন জানিয়েছেন, তাঁদের বাড়িঘর কেঁপে ওঠে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও সেই ভিডিও সামনে এসেছে। যদিও মাটিতে বিস্ফোরণ ঘটতে দেখা যায়নি। আমেরিকার জিওলজিক্যাল সার্ভে উল্কা বিস্ফোরণের ঘটনায় সিলমোহর দিয়েছে। তবে তার ফলে ভূকম্পন হয়েছে বলে ধরা পড়েনি তাঁদের কাছে।