Ceasefire Violation: এই নিয়ে পরপর চার রাত। নিয়ন্ত্রণরেখায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করল পাকিস্তান। আবারও বিনা প্ররোচনায় পাক-সেনার তরফে গুলি চালানো হয়েছে। এবার কুপওয়ারা এবং পুঞ্চ জেলায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। জানা গিয়েছে, এই প্রথম পুঞ্চ সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর বিনা প্ররোচনায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গুলি চালিয়েছে পাক-সেনা। পাল্টা জবাব দিয়েছে ভারতও। পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলার পর থেকেই বারবার অশান্ত হয়ে উঠছে নিয়ন্ত্রণরেখা। ওপারে পাকিস্তানি সেনার একাধিক চৌকি থেকে একসঙ্গে গুলি চালানো হচ্ছে এপারের সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্যে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিবৃতি
ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, '২৭-২৮ এপ্রিল রাতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকটি চৌকি থেকে বিনা প্ররোচনায় গুলি চালানো হয়েছে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর। ছোটখাটো অস্ত্রের সাহায্যে গুলি চালানো হয়েছে ওপারের বিপরীত দিকে অর্থাৎ এপারের কুপওয়ারা এবং পিঞ্চ জেলায়। দ্রুত এবং কার্যকর ভাবে জবাব দেওয়া হয়েছে।' এর পাশাপাশি ভারতীয় সেনাবাহিনীর তরফে এও জানানো হয়েছে যে, এই প্রথম পুঞ্চ সেক্টর বরাবর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে পাক-সেনা।
গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হয়েছে। পহেলগাঁওয়ের কাছে পর্যটকদের 'মাস্ট ভিজিট প্লেস' বৈসারন উপত্যকা রয়েছে। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের জন্য এই জায়গা 'মিনি সুইৎজারল্যান্ড' নামেও পরিচিত। সেখানেই পর্যটকদের উপর জঙ্গি হামলা হয়েছে। ২৫ জন পর্যটক-সহ মোট ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। জঙ্গিরা এসে পর্যটকদের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চায়। জিজ্ঞেস করে হয় কারা হিন্দু, কারা মুসলমান। তারপর 'কলমা' পড়তেও বলা হয়। এরপর বেছে বেছে টার্গেট করা হয় হিন্দু পর্যটকদের, মূলত পুরুষদের। মাথায় গুলি করে খুন করা হয়েছে সাধারণ পর্যটকদের। তাঁদের বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে জঙ্গিদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছেন এক স্থানীয় কাশ্মীরি যুবক, যিনি পেশায় টাট্টু ঘোড়ার চালক। নিজের ঘোড়ায় করে পর্যটকদের বৈসারন বেড়াতে নিয়ে যেতেন সৈয়দ আদিল হুসেন। পহেলগাঁওয়ের এই জঙ্গি হামলার তদন্তভার নিয়েছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ। এখনও এই ঘটনায় গ্রেফতার হয়নি মূল অভিযুক্ত জঙ্গিদের কেউই। তাঁদের খঁজে উপত্যকা জুড়ে চলছে খানাতল্লাশি।