ভুবনেশ্বর : নেপালি পডুয়ার রহস্যমৃত্যু ঘিরে উত্তাল ওড়িশার কলিঙ্গ ইন্সটিটিউট অফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজি। রবিবার গার্লস হস্টেলের ঘর থেকে উদ্ধার হয় এক ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ। ওই পড়ুয়া নেপালের বাসিন্দা।  অভিযোগ, বহুদিন ধরে তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্র তাঁকে উত্যক্ত করত। তার জেরেই পডুয়া আত্মঘাতী হন বলে অভিযোগ।


মৃত পড়ুয়া বিটেক কম্পিউটার সায়েন্সের ছাত্রী।   সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। দেহ উদ্ধারের পর থেকেই একটি ছেলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের টানাপোড়েনের বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়। ওই ছেলেটির বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন মৃত পড়ুয়ার এক তুতো ভাই। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ছেলেটি মৃত পড়ুয়াকে বিরক্ত করছিল। ক্রমাগত চলছিল 'ব্ল্যাকমেইল'করা।  তার ফলেই সে এই চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয় বলে অভিযোগ করা হয়। 


দেহ উদ্ধারের পরই উত্তাল হয়ে ওঠে ওড়িশার 'KIIT'। ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয় পড়ুয়াদের একাংশ। নেপালি ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্যাম্পাসে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। নেপালি শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের কাছের রাস্তা অবরোধ করে। এর মধ্যেই নেপাল থেকে আসা সব পড়ুয়াদের ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশিকা জারি করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যা ঘিরে বিতর্ক চরমে ওঠে।  আরও বিপাকে পড়ে নেপালি পড়ুয়ারা।  একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলের দরজা তাঁদের জন্য বন্ধ, অন্যদিকে অমিল ফিরে যাওয়ার টিকিট ! মাথায় হাত পড়ে যায় নেপালি ছাত্রছাত্রীদের । নেপালি ছাত্রছাত্রীদের দাবি, কলেজ কর্তৃপক্ষ সময়মতো মৃত পড়ুয়ার সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়নি। তাই এই চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন তিনি। 


বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটিশ নিয়ে জলঘোলা হতেই ফের নেপালি পড়ুয়াদের ক্যাম্পাসে ফেরার অনুরোধ জানানো হয়। KIIT তাদের  বিজ্ঞপ্তিতে জানায়,  'KIIT ক্যাম্পাস এবং হোস্টেলে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।  নেপালি শিক্ষার্থী যাঁরা ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বা ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন তাঁদের ফিরে আসার এবং ক্লাসে যোগ দেওয়ার আবেদন করা হচ্ছে।' পুলিশ এরমধ্য়েই অভিযুক্ত পড়ুয়াকে গ্রেফতার করে।


কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে উদ্যোগী হয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী।  দিল্লির দূতাবাস থেকে ২ অফিসারকে ওড়িশা যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি টুইটে জানান, ওড়িশায় ক্ষতিগ্রস্ত নেপালি শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেওয়ার জন্য নয়াদিল্লি থেকে নেপালের দূতাবাস দুজন কর্মকর্তাকে পাঠানো হচ্ছে।  নেপালের ছাত্রছাত্রীরা চাইলে  হস্টেলে থাকতে পারেন।  অথবা বাড়ি ফিরে আসতে পারেন। সেই বিষয়টিও দেখে নেবেন তাঁরা।