কলকাতা: আনন্দ, উৎসব, উদযাপন শেষে বিষাদের সুর। হই, হুল্লোড়, আড্ডা, দেদার প্যান্ডেল হপিংয়ের পর মনের কোনে এক চিলতে বিষণ্ণতা। আজ বিদায়ের বিজয়া দশমী। এদিকে আজই আবার হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস মিলিয়েই শুরু হয়েছে ভারী বৃষ্টি কলকাতায়। প্রবল বর্ষণের মধ্যেই চলছে শহরে প্রতিমা নিরঞ্জন, ঘাটগুলিতে কড়া নজরদারি, জোয়ারের সময় কখন ? অফিশিয়ার পোস্ট কলকাতা পুলিশের।

আরও পড়ুন, অশোকনগরে দশমীর ভোরে উদ্ধার প্রাক্তন সেনাকর্মীর মেয়ের ক্ষতবিক্ষত দেহ ! কেন পালিয়ে গেলেন সঙ্গীরা ?

কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, আজ জোয়ারের সময় বিকেল ৫ টা ২৬ মিনিট। আজ ভাটার সময় ১০ টা ০৩ মিনিট। আজ জোয়ারের সময় অনুযায়ী, বিসর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত্রি ১০ টার মধ্যে। উল্লেখ্য, হাওয়া অফিস ইতিমধ্যেই সতর্ক করে জানিয়েছে,  আজ দশমীতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ঝড় ও বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা বেশি থাকবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরে। এই তিন জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা।  কলকাতা ও হাওড়াতে ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা। উত্তর ২৪ পরগনা এবং হুগলি পূর্ব বর্ধমান ঝাড়গ্রাম বাঁকুড়া পুরুলিয়া নদিয়াতে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা। অতি বৃষ্টির সঙ্গে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝড়ো হাওয়া বইবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর উপকূল জেলাতে। দক্ষিণবঙ্গের উপকূল সংলগ্ন জেলা গুলিতেও ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা বাতাস।

নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল থাকবে। সমুদ্রে ঝড়ের গতিবেগ ৭৫ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায় হতে পারে। মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কবার্তা। শুক্রবার পর্যন্ত বাংলা ও উড়িষ্যার মৎস্যজীবীদের জন্য নিষেধাজ্ঞা। বাংলা ওড়িশার মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

অপরদিকে, হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস মেনে গতকাল রাত থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া শুরু হয়েছে। রাতভর নাগাড়ে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি চলে। সকাল থেকে আকাশ কালো মেঘে ঢাকা। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আজ ও আগামীকাল ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দুর্গাপুজোর আনন্দে খানিকটা ভাটা পড়েছে। তবে গতকাল রাতে প্রবল বৃষ্টি মাথায় নিয়েও বহু মানুষ মণ্ডপে ভিড় জমিয়েছিলেন।সমুদ্র উত্তাল থাকায় জেলেদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, আজ বিজয়া দশমী উপলক্ষে বিকেল থেকে জেলার বিভিন্ন নদী ও জলাশয়ে প্রতিমা নিরঞ্জনের করা হবে। দুর্যোগে যাতে কোনোরকম বিপত্তি না ঘটে, তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারি চালানো হবে। পুলিশ এবং সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা বিশেষভাবে মোতায়েন রয়েছেন। টানা বৃষ্টির কারণে পুজো মণ্ডপগুলি জলমগ্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে জেলা প্রশাসন।