পার্থপ্রতিম ঘোষ, ফলতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : নেপালে পালানোর চেষ্টা বানচাল, গ্রেফতার তৃণমূলের 'পুষ্পা'। ঝুঁকতেই হল 'পুষ্পা'কে, পানিট্যাঙ্কি সীমান্তে STF-র হাতে গ্রেফতার। অভিষেক-ঘনিষ্ঠ ফলতার তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়। পুনর্নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে আগেই ঝুঁকেছিলেন ফলতার 'পুষ্পা'। আর এবার জাহাঙ্গির খান গ্রেফতার হতেই বিক্ষোভ আছড়ে পড়ল তাঁর বাড়ি, পার্টি অফিস এবং গাড়িতে। লাঠি দিয়ে ভাঙা হল জানলার কাচ। ভেঙে ফেলা হল জাহাঙ্গিরের পার্টি অফিসের ফলস সিলিং, দরজ। উল্টে দেওয়া হল টেবিল, চেয়ার। খুলে ফেলা দেওয়া পার্টি অফিসের দেওয়ালে টাঙানো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাধানো ছবি। 

Continues below advertisement

জাহাঙ্গির পার্টি অফিসেই কোথাও ডাঁই করে রাখা হয়েছে ত্রাণের ত্রিপল। আবার কোথাও বস্তাবন্দি অবস্থায় পড়ে দুর্গতদের জন্য বরাদ্দ কম্বল, জামাকাপড় থেকে বহু জিনিস। জাহাঙ্গির খান গ্রেফতার হতেই তাঁর পার্টি অফিস থেকে বের হচ্ছে একের পর এক 'গুপ্তধন'। একসময়ের ফলতার বেতাজ বাদশা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে, ভোট সন্ত্রাস, ভোট লুঠ, ভয় দেখানো, হুমকি, মারধর, তোলাবাজি, অনিচ্ছাকৃত খুন- সহ গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ রয়েছে। রাজ্যের সরকার বদলের পরই, জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ্যে চলে আসে। আর পুষ্পা গ্রেফতার হতেই এদিন সেই ক্ষোভ আছড়ে পড়ে জাহাঙ্গির খানের বাড়িতেও। ভাঙচুর চালানো হয় তাঁর গাড়িতেও। ফলতার পুনর্নির্বাচনের আগে রণভঙ্গ দিয়ে গা ঢাকা দিয়েছিলেন জাহাঙ্গির খান। সোমবার ভারত-নেপাল সীমান্ত থেকে তোলাবাজির অভিযোগে ফলতার পরাজিত তৃণমূল প্রার্থীকে গ্রেফতার করেছে STF. তারপরেই ফলতার স্বঘোষিত পুষ্পা, তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ আছড়ে পড়ে এদিন। 

স্বরূপ বিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর ফ্ল্যাটে তল্লাশি অভিযানে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ, পাহারায় কেন্দ্রীয় বাহিনী

Continues below advertisement

অবশেষে জালে ফলতার 'পুষ্পা' জাহাঙ্গির খান। পশ্চিমবঙ্গ-নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করা হল তাঁকে। বেঙ্গল STF ও ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হলেন জাহাঙ্গির। সূত্রের দাবি, পুলিশ খবর পায়, যে জাহাঙ্গির পালানোর চেষ্টা করছেন নেপালে। সেই জন্য় ঘর ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন তিনি। এমনকী পুলিশের দাবি, নেপালে গিয়ে সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করানোর ব্য়বস্থাও করে ফেলেছিলেন জাহাঙ্গির। এসবের মধ্য়েই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

বিধানসভা ভোটে ফলতায় জাহাঙ্গির খানকে প্রার্থী করে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে, গোটা ফলতার নির্বাচনই বাতিল করে দেয় নির্বাচন কমিশন। এরপর পুনর্নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে, ভোটের ময়দান থেকে পালিয়ে যান জাহাঙ্গির খান! পালাবদলের পর গ্রেফতার হন জাহাঙ্গিরের ঘনিষ্ঠ। এর মধ্য়েই তাঁর রক্ষাকবচও তুলে নেয় কলকাতা হাইকোর্ট! তারপর থেকেই কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না ফলতার একসময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা, জাহাঙ্গির খানের।