জলপাইগুড়ি: রাজগঞ্জের বিডিও-র পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল প্রশান্ত বর্মণকে। সুপ্রিম কোর্ট আত্মসমর্পণের নির্দেশের পরেই,প্রশান্ত বর্মণের জায়গায়, রাজগঞ্জে নতুন বিডিও সৌরভকান্তি মণ্ডল। খুনের মামলায়, সুপ্রিম কোর্টের  আত্মসমর্পণের নির্দেশের পরেই বিডিও-র পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল তাঁকে। 

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, যোগেশ চন্দ্র কলেজে ফের সরস্বতী পুজো নিয়ে জটিলতা, অধ্যক্ষের ঘরেই তালা দিলেন ছাত্রদের একাংশ

Continues below advertisement

আগামী ২৩ জানুয়ারির মধ্যে প্রশান্ত বর্মণকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত

মূলত গত ৩০ অক্টোবর, দত্তাবাদে নিউটাউনে, স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায়, নাম জড়িয়েছিল তাঁর। যদি তিনি বরাবরই দাবি জানিয়ে এসেছেন, এই মামলায় তার নাম জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও তার দাবি ধোপে টেকেনি। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেয়েছেন জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের সদ্য প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মণ। আগামী ২৩ জানুয়ারির মধ্যে প্রশান্ত বর্মণকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। 

ঠিক কী হয়েছিল ?

চলতি বছরে অক্টোবারের ৩০ তারিখ দত্তাবাদে উদ্ধার হয়েছিল, স্বর্ণ ব্যবসায়ীর দেহ। এরপরেই অপহরণ করে খুনের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে তৎকালীন বিডিও প্রশান্ত বর্মণের বিরুদ্ধে। বিধাননগর দক্ষিণ থানা, এই ঘটনার পর মামলা দায়ের করা হয়। এই ঘটনায় এবিপি আনন্দ-এ প্রথম গুরুতর অভিযোগ তোলেন দোকানের মালিক ও প্রত্যক্ষদর্শী। অভিযোগের বহর চওড়া হতেই, গ্রেফতার করা হয়েছিল তার একের পর এক ঘনিষ্ঠদের। এহেন পরিস্থিতি বারাসাত কোর্টে অন্তবর্তী আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন তিনি। গত বছর ২৬ নভেম্বর সেই আবেদন মঞ্জরও করে আদালত। তবে এরপরেই নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে, হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়, বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট।

হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি প্রশান্তর 

এরপর গত ২২ ডিসেম্বর নিম্ন আদালতের নির্দেশ খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ জানিয়েছিলেন যে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রশান্ত বর্মণকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এদিকে সেই সময় পেরিয়ে গেলেও, তিনি ধরা দেননি। বরং হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন প্রশান্ত বর্মণ। এবং মামলার শুনানিতে দেশের শীর্ষ আদালতে, প্রশান্ত আইনজীবী দাবি জানান যে, তাঁর মক্কেল নির্দোষ। তবে রাজ্য সরকারের পক্ষের আইনজীবী জানান, প্রমাণ্য ফুটেজ তাঁদের কাছে ইতিমধ্যেই আছে, তাই প্রশান্তকে জেরা করার দরকার একেবারেই আছে। এরপরেই প্রশান্ত বর্মণকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয় দেশের শীর্ষ আদালের বিচারপতি রাজেশ বিন্দল এবং বিজয় বিষ্ণোইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ।