কলকাতা: বিধানসভায় ঋতব্রত-মডেলে দিল্লিতেও 'কাকলি-মডেল'। গত কয়েকদিন ধরেই তৃণমূলের ভাঙন ঘিরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। দিল্লিতে মমতা, ভেঙে চুরমার তৃণমূলের সংসদীয় দল। NDA 'শরিক' বিদ্রোহী ব্লক। ঠিক এমন এক মুহূর্তেই বিশেষ সাক্ষাৎকারে মুখ খুললেন তৃণমূল বিধায়ক কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
আরও পড়ুন, তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়ের বাড়িতে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
এদিন কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, রাজনৈতিক দল তাঁর মাহাত্ম হারায় বলে আমার মনে হয়। আর আমি নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছি ৪০-৪২ বছর। অনেকে বলছেন যে, ক্ষমতায় নেই বলে, আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার কথা আমি বলি, ২০১১ সালের আগে কিন্তু ক্ষমতায় ছিলাম না আমরা। যারা ২০১১ সালের পরে এসেছে, তাঁরা ক্ষমতালোভী হতে পারে। কিন্তু বিশেষ করে আমার কথা বলতে পারি, আমার মতন কয়েকজন আমরা যারা… ৮৪ সালে উনি যখন প্রথমবার যাদবপুর লোকসভায় দাঁড়ালেন, তার পর থেকেই উনি আমাকে ৫ বার বিভিন্ন নির্বাচনে দাঁড় করিয়েছেন। লোকসভা, বিধানসভা। প্রত্যেকবার আমি হেরেছি। ৫ বার। কিন্তু লড়াই থামেনি।অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইষ অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই। অনুন্নয়নের বিরুদ্ধে লড়াই। খেটে খাওয়া মানুষের স্বার্থে লড়াই। এবং সেই লড়াই করতে করতে তো এই জায়গায় এসেছি। ২০০৯ জিতলাম। উনিও সেভাবে লড়তে লড়তে ২০১১ সালে জিতলেন। কিন্তু সেই যে রাজ্য সরকার তাঁর, তিনবার চলল। ২০১১ সাল থেকে ২০২৬ অবধি, শেষের দিকে ৫-৬ বছর, সেখানে কিন্তু অনৈতিকতা বাসা বেঁধেছে। সেখানে কিন্তু অনুন্নয়ন বাসা বেধেছে। সেখানে নারী নির্যাতনের বাসা বেঁধেছে। না হলে আরজি করের মতো ঘটনা হয় না। আর যতটুকু আমি কিন্তু, মাঝে মাঝে বলার চেষ্টা করেছি, মাঝে মাঝে আপত্তি জানিয়েছি, সেটা তো শোনা হয়নি। আর আরজিকরের ঘটনাটা সম্পূর্ণ রূপে আমার আস্তা ভরসা, বিশ্বাসের জায়গা আঘাত লেগেছে। কিন্তু ২০২৫ সালে কিছু বলিনি কেন, ২০২৬ এ নির্বাচন, অর্থাৎ দলটা তিল তিল করে খেঁটে পরিশ্রম করে মার খেয়ে গড়ে তুলেছি। আজকে যে, ট্যুইটারে আমাকে গালাগালি দিচ্ছে, আমি যখন ৯৬তে ভোটে দাঁড়িয়েছি, ৯৮ তে ভোটে দাঁড়িয়েছি, ৯৯ তে ভোটে দাঁড়িয়েছি, হেরেছি, তখন সে কোথায় ছিল ? তখন স্কুলে পড়ত বোধহয়, সেই মেয়ে।..হঠাৎ করে উড়ে এসে জুড়ে বসে, বিরাট নেত্রী হয়ে গেছে, তাঁর গালাগালি শুনতে আমি রাজি নই।..গত ১৫ দিনে যে পারছে সে গালাগালি দিচ্ছে। ধৈয্যেরও একটা সীমা থাকে। আমি যখন খেটেখুটে ..মানুষের স্বার্থে, মানুষের কাজ করব এসেছি, মানুষের কাজ করতে পারছি না দেখে, আমরা সবাই আলাদা বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
কাকলি ঘোষ দস্তিদার : পাপ কিন্তু বাপকেওছাড়ে না।
প্রশ্ন: আজকে কী হল ? দিল্লিতে ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে ?আপনারাকী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং কারা কারা উপস্থিত ছিলেন ?
কাকলি ঘোষ দস্তিদার : আলোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তই হল যে, বাংলার জনাদেশ, বিরুদ্ধে গিয়েছে। স্পষ্ট মতামত প্রকাশ করেছে, অন্যায়, অনাচার, এবং যে দুর্নীতি, এখানে যে কিছু কিছু একেবারেনীচু স্তরথেকে শুরু করে, সর্বস্তরে একটা কাটমানির প্রভাব। যেটা আমাদের পলিসি ফেলিওর। বা আমাদের কোনও উন্নয়ন হয়নি। এগুলির বিরুদ্ধেই তো মানুষের রায়। এই পরিস্থিতিকে দাবানলে পরিণত করেছে আরজি করের ঘটনা। যে মর্মান্তিক ঘটনায়, তাঁর কাজের জায়গায় ধর্ষিতা হয়ে খুন হয় এবং প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা হয়।
