দিল্লি : মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দিন দিন গোটা বিশ্বের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার ফলে বিশ্ববাজারে এক অদ্ভুত সঙ্কট দেখা দিয়েছে। গ্যাস থেকে পেট্রোল-ডিজেল, রান্নার তেল, নিত্য প্রয়োজনীয় সমস্ত জিনিসের দাম দিন দিন বেড়েই চলেছে। সবচেয়ে বেশি সঙ্কট দেখা দিচ্ছে পেট্রোল-ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের। কী ঘটতে চলছে আগামীদিনে তা নিয়ে চিন্তায় সাধারণ মানুষ। তবে এর মাঝে ভারতের জন্য একটি সুখবর সামনে এসেছে। 

Continues below advertisement

দেশে এলপিজির ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি এবং ইরানের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহে সমস্যার মধ্যে ভারতের জন্য একটি বড় খবর প্রকাশ্যে এসেছে। শিল্পপতি গৌতম আদানির সংস্থা আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন (APSEZ) আর্জেন্টিনার প্রথম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) রপ্তানির জন্য একটি ১০-বছরের চুক্তি করেছে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ আমেরিকায় সংস্থাটি প্রথমবারের মতো তাদের আন্তর্জাতিক রফতানির জায়গাটি সম্প্রসারণ করল।  আরও পড়ুন - ফের দাম বাড়ল ৫ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের, কত টাকা গুনতে হবে আপনাকে ?

এই চুক্তিটি বর্তমান সময়ে বাড়তি তাৎপর্য লাভ করেছে, কারণ আর্জেন্টিনা ভারতের একটি প্রধান ভবিষ্যৎ এলএনজি সরবরাহকারী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। শিল্পপতিদের কথা অনুযায়ী, ২০২৭ সাল থেকে ভারতে বার্ষিক ১০ মিলিয়ন টন পর্যন্ত এলএনজি রপ্তানি করতে চুক্তি করা হচ্ছে, যা দুই দেশের মধ্যে একটি নতুন জ্বালানি বাণিজ্য করিডোর তৈরি করবে। 

Continues below advertisement

চুক্তি অনুযায়ী, এটি এলএনজি রপ্তানি টার্মিনালের জন্য বিভিন্ন সামুদ্রিক পরিষেবা প্রদান করবে, যার মধ্যে রয়েছে এলএনজি ক্যারিয়ারের জন্য টাগবোট পরিচালনা, লজিস্টিক সহায়তা এবং ক্রু স্থানান্তর পরিষেবা। চারটি উচ্চ-মানের টাগবোট, একটি অ্যাঙ্কর হ্যান্ডলিং টাগ সাপ্লাই ভেসেল এবং একটি ক্রু বোট সমন্বিত একটি নৌবহর এই কার্যক্রমকে পরিচালনা করতে সাহায্য করবে।

তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগের পরিমাণ আনুমানিক ৭০ মিলিয়ন ডলার। আদানি পোর্টস আর্জেন্টিনার উপকূল থেকে এবং উপকূলে বড় গ্যাসবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপদে পরিবহন করতে বড় দায়িত্ব পালন করবে। এই কাজটি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে চারটি বিশেষ টাগবোট এবং ক্রু বোট মোতায়েন করবে। এই প্রকল্পের কাজ ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আরও পড়ুন - LPG নিয়ে নয়া পদক্ষেপ ! পরিযায়ী শ্রমিক ও পড়ুয়ারা পাবেন এই সুবিধা, কী জানাচ্ছে কেন্দ্র?

এই চুক্তিটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?ইসরায়েল ও শ্রীলঙ্কার পর ভারতের শিল্পপতি গৌতম আদানির আদানি গ্রুপ প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আমেরিকার বাজারে প্রবেশ করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম অপারেটর হওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সংস্থাটির। এই চুক্তির অধীনে আদানি পোর্টস বার্ষিক ৭ মিলিয়ন ডলারের একটি নির্দিষ্ট আয় পাবে বলে আসা করছে। এই খবরটি ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে ভবিষ্যতে আর্জেন্টিনা থেকে গ্যাস রপ্তানির পথ খুলে যেতে পারে। এতে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে গ্যাস আমদানির ওপর ভারতের নির্ভরতা কমবে।