নয়াদিল্লি: দেশ জুড়ে রান্নার গ্যাসের আকাল। IRCTC-র পরিষেবাতেও তার আঁচ অনুভূত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বড় সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে ভারতীয় রেলকে। দূরপাল্লার ট্রেনে আপাতত  রান্না করা খাবার পরিবেশন বন্ধ রাখা যায় কি না, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। টিকিটের সঙ্গে যাঁরা ইতিমধ্য়েই খাবার বুক করে ফেলেছেন, তাঁদের খাবারের টাকা ফেরত দেওয়া হতে পারে বলে খবর। (LPG Cylinder Shortage)

Continues below advertisement

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে ভারতেও। হোটেল-রেস্তরাঁ, হাসপাতাল, শ্মশানের কাজকর্মও ব্যাহত হচ্ছে। গৃহস্থের যাতে সমস্যা না হয়, তাই আপাতত বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। সেই আবহেই দূরপাল্লার ট্রেনে রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়াও দুষ্কর হয়ে উঠেছে। (LPG Gas Crisis)

রেল আধিকারিকরা জানিয়েছেন, LPG-সঙ্কটের প্রভাব পড়ছে IRCTC-র হেঁশেলেও। খাবার রান্না করে ট্রেনের প্যান্ট্রিতে তোলে তারা। সেই খাবার গরম করে যাত্রীদের পরিবেশন করা হয়। LPG-র জোগান না থাকায়, মূল হেঁশেলেই হাড়ি চড়ানো মুশকিল হয়ে উঠেছে। তাই বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। 

Continues below advertisement

দিল্লি সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ক্যাটেরিং পরিষেবা প্রদানকারীদের সতর্ক করেছে IRCTC. আপাতত যাত্রীদের কাছে যাতে খাবার পৌঁছে যায়, তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করে রাখতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার IRCTC-র তরফে ফুড প্লাজা, রিফ্রেশমেন্ট রুম এবং জন আহার আউটলেটগুলিকে চিঠি দেওয়া হয়। LPG-র জোগানে টান পড়লে রান্নার বিকল্প উপায় বের করে রাখতে বলা হয়েছে  সকলকে।

ওই  চিঠিতে IRCTC জানায়, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে আঞ্চলিক স্থিতাবস্থার উপর প্রভাব পড়ছে, যার দরুণ LPG সিলিন্ডারের জোগানেও প্রভাব পড়ছে। সমস্ত ফুড প্লাজা, রিফ্রেশমেন্ট রুম এবং জন আহার আউটলেটগুলির পরিষেবা যাতে অব্যাহত থাকে, তা দেখতে হবে। পাশাপাশি, 'রেডি টু ইট' খাবার মজুত রাখতে হবে, যাতে যাত্রীদের চাহিদা মেটানো যায়। সিলিন্ডারে টান পড়লে সঙ্গে সঙ্গে তা কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে শুরু করেছে বিরোধী দলগুলি। সংসদ চত্বরে এদিন বিক্ষোভ দেখান বিরোধী শিবিরের নেতানেত্রীরা। হই হট্টগোলের জেরে বেলা ১২টা পর্যন্ত মুলতুবি হয়ে যায় লোকসভা। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ দাবি করেন বিরোধীরা। যদিও বিজেপি-র দাবি, নরেন্দ্র মোদির বিরোধিতা করতে গিয়ে দেশের বিরোধিতা করছেন বিরোধীরা।