নয়াদিল্লি: কুম্ভমেলায় উপচে পড়া ভিড় পুণ্যার্থীদের। পুণ্যলাভের আশায় হাজার হাজার মাইল ছুটে এসেছে ভক্তকূল। ধ্যানমগ্ন সন্ন্যাসী। দেশি-বিদেশি অতিথি। সব মিলে মিশে একাকার। প্রয়াগরাজে সাধু-সন্তদের আখড়ার ধরা পড়েছে নানা রঙের ছবি। কেউ হিমশীতল প্রয়াগে বসে রয়েছে ভষ্ম মেখে, কেউ IIT থেকে,  কেউ আবার অক্সিজেন সিলিন্ডারকে সঙ্গী করেই পৌঁছে গিয়েছেন আখড়ায়। দেশ-বিদেশ থেকে পুণ্য়ার্থীরা সেখানেই ভিড় করছেন বাবার আশীর্বাদ নিতে। তবে এবার প্রকাশ্যে এল আরও এক নতুন ছবি। এবার প্রয়াগে সুদূর রাশিয়া থেকে হাজির মাসকিউলার বাবা।  যদিও তাঁকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে, তিনি এসেছেন কোথা থেকে। পরনে গেরুয়া বসন, কপালে লাল সিদূর, পেশিবহুল চেহারায় রুদ্রাক্ষের মালা। যার উচ্চতা ৭ ফুট ! 


প্রয়াগরাজে তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করছে ১০ এর ঘরে। আবহাওয়ার পর্যবেক্ষণ বলছে, আরও নামতে পারে প্রয়াগরাজের পারদ। আর উত্তরপ্রদেশের এই হাড়কাঁপানো শুকনো ঠান্ডাতেও,গায়ে শুধুমাত্র ভষ্ম মেখে বসে রয়েছেন নাগা বাবা। গায়ে নেই কোনও বস্ত্র।সেই নভেম্বর মাস থেকে প্রয়াগরাজের আখাড়ায় এসে বসে আছেন নাগা বাবা। সামনেই জ্বলছে আগুন। পুড়ছে কাঠের পর কাঠ। আর সেই আগুনের উত্তাপই নাগা বাবার জন্য যথেষ্ট। সেই কাঠের ছাই-ই গোটা গায়ে মেখে রয়েছেন তিনি।এক নাগা বাবা বলেছেন, 'আমি এখানে নভেম্বরেই চলে এসেছিলাম। এক মাস আখাড়ার মধ্যেই ছিলাম। আখাড়ার মধ্যে ধুনো জ্বালিয়ে বসে আছি। তিন গাড়ি কাঠ জ্বালানো হয়েছে এখনও পর্যন্ত। এখনও আপনার সামনে রাখা আছে। এটাও জ্বালানো হবে। পরে আরও আসতে পারে। ঠান্ডাতেও এখান থেকে কোথাও যাইনি', সংযোজন নাগা বাবার।


দূর দূরান্ত থেকে ভক্তরা এসে ভিড় করছেন নাগা বাবার আখড়াতে। এমনকী, সুদূর দুবাই থেকেও এসেছেন পূণ্যার্থীরা। একদিকে যেমন প্রয়াগরাজের একটি আখড়ায় নাগা বাবার দরবারে ভিড় করছেন অনেকে, তেমনি শাহি স্নান করবেন বলে একরকম জেদ করেই সেখানে এসেছেন অক্সিজেন বাবা।নাকে অক্সিজেনের নল, বিকল হয়েছে হৃদপিণ্ড। করোনা কেড়ে নিয়েছে শরীরের বল। কিন্তু মনের জোর কমেনি এতটুকুও। চিকিৎসকদের বারণ সত্ত্বেও তাই হরিয়ানা থেকে প্রয়াগরাজের ঝুসি আখাড়ায় ছুটে এসেছেন অক্সিজেন বাবা।


আরও পড়ুন, কলকাতার আবাসনে দাউদাউ আগুন ! কাছেই স্কুল-হাসপাতাল, ঘটনাস্থলে দমকলের ৮টি ইঞ্জিন..


অক্সিজেন বাবা বলেন,আমার হার্ট বিকল হয়ে গেছে। ডাক্তাররা কোথাও বারণ করেছিলেন। তবু গঙ্গা মাইয়ার কৃপায় এসেছি। আমার আশ্রম হরিয়ানার হিসারে। তিনটে স্নান আছে। তিনটে স্নান করে তবেই এখান থেকে যাব।বহু বিশ্বাসের মেলবন্ধন, বহু আশাহতের কাছে আশার আলো। প্রয়াগরাজের প্রতি বাঁকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে জীবন দর্শনের এমনই নানান গল্প গাথা।ত্রিবেণী সঙ্গম থেকে স্নান করে  পোন্টুন ব্রিজ ধরেই সাধুদের আখাড়ায় যান পুণ্য়ার্থীরা। এখান থেকে ব্রিজ পেরোলে ওপারে রয়েছে সাধুদের তাবু।বহু বিশ্বাসের মেলবন্ধন, বহু আশাহতের কাছে আশার আলো। প্রয়াগরাজের প্রতি বাঁকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে জীবন দর্শনের এমনই নানান গল্প গাথা।