বিজেন্দ্র সিংহ, প্রয়াগরাজ : মহাকুম্ভে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুমিছিলের আতঙ্ক কাটেনি। তার মধ্যেই এবার কুম্ভমেলা চত্বর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে তাঁবুতে আগুন লেগেছে বলে খবর। গত ১৯ জানুয়ারির পর এবার ৩০ জানুয়ারি, ফের কুম্ভমেলা চত্বরের কাছে তাঁবুতে আগুন। আজ দুপুর ২টো আগুন লাগে প্রাইভেট টেন্টে, এমনটাই জানা গিয়েছে। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে দমকল বাহিনী। হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। মৌনী অমাবস্যার দিন অমৃত স্নান করতে গিয়ে পদপিষ্ট হওয়ার যে ভয়ানক ঘটনা ঘটেছে, তারপর বলা হয়েছে যোগী সরকার প্রয়াগরাজের কুম্ভমেলার ব্যবস্থাপনায় নজর দিয়েছে। কিন্তু তার মধ্যেই ফের একবার মেলা প্রাঙ্গণের অনতিদূরে তাঁবুতে আগুন লাগার ঘটনার কুম্ভমেলার পরিকাঠামো, ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। 

তবে ১৯ জানুয়ারি আগুন যতটা ভয়াবহ আকারে লেগেছিল, এবার আগুনের গ্রাস ততটা তীব্র ছিল না। দুপুর ২টো নাগাদ আগুন লাগার পর খানিকক্ষণের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে দমকল বাহিনী। সেক্টর ২২- এর প্রাইভেট টেন্টগুলিতে আগুন লাগে বলে খবর। পুলিশ এবং দমকল বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে বেআইনি ভাবে এইসব তাঁবুগুলি তৈরি করা হয়েছিল। অনুমান, সেখানে রান্না করছিলেন বাসিন্দারা। তার থেকেই কোনও ভাবে আগুন লেগে গিয়েছে। এই অংশে অন্যান্য যে প্রাইভেট টেন্ট রয়েছে যেগুলি বেআইনি ভাবে বানানো হয়েছে, সেগুলি সরানোর ব্যবস্থা করছে মেলা কর্তৃপক্ষ। বেআইনি ভাবে তৈরি এই তাঁবু এলাকায় আগুন লাগার পর সেখানে দমকল বাহিনীর আসতে কিছুটা সময় লেগেছিল। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তাঁবু পুড়ে গিয়েছে ঠিকই। তবে কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। 

গত ১৯ জানুয়ারি মহাকুম্ভ মেলা প্রাঙ্গণে ভয়াবহ আগুন লেগেছিল। সেক্টর ১৯- এর বিশাল অংশ জুড়ে আগুনের গ্রাসে পুড়ে ছাই হয়ে যায় অসংখ্য তাঁবু। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ বেগ পেতে হয় দমকল বাহিনীকেও। একের পর এক তাঁবুতে নিমেষে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আড়াইশোর বেশি তাঁবুর ভিতরে থাকা সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ধর্মসংঘ এবং গীতাপ্রেসের আখড়া ছিল ওই অংশে, এমনটাই জানা গিয়েছিল। সেখানেই আগুন লাগে। তিনটি সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছিল। তবে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তাঁবু থেকে নিরাপদে সকল বাসিন্দাদের সরানো সম্ভব হয়েছিল। কারও প্রাণহানি হয়নি। 

আরও পড়ুন- ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার গতিতে ছুটবে, মার্চেই আসছে হাইড্রোজেন ট্রেন, তাবড় দেশকে টেক্কা ভারতের